1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
অর্থের বিনিময়ে নতুন করে দালাল চক্রের মাধ্যমে  ১৬ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা, সীমান্তে সক্রিয় দালাল চক্র। - আদালত বার্তা
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল তাপপ্রবাহ: আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরা লাগবে না সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকরা ঐক্যবদ্ধ। হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন বিচার বিভাগ এখন জনগণকে ‘নির্যাতনের’ জায়গা: মাসদার হোসেন যৌন নির্যাতন যেন ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ ইসরায়েলের কারাগারে শিকল দিয়ে বেঁধে পালাক্রমে চলে ধর্ষন ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল  মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস রোব-মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে, বাকি দিন অফলাইনে ক্লাস। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধে “পাল্টাপাল্টি শর্ত” প্রভাবে কি হবে? যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক হামলা করলে পরিণতি কী হবে?

অর্থের বিনিময়ে নতুন করে দালাল চক্রের মাধ্যমে  ১৬ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা, সীমান্তে সক্রিয় দালাল চক্র।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
  • ৪৯৪ বার পড়া হয়েছে

 

  • অর্থের বিনিময়ে নতুন করে দালাল চক্রের মাধ্যমে  ১৬ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা, সীমান্তে সক্রিয় দালাল চক্র।ছবি সংগ্রহীত
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৪ জুলাই ২০২৪

নাফ নদের এক পাড়ে কক্সবাজারের টেকনাফ, অন্য পাড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর। নাফের ওপারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও তৎপর হয়ে উঠেছে দুই দেশের রোহিঙ্গা পারাপারের দালালচক্র।

অর্থের বিনিময়ে এই চক্রের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে দাবি করা হলেও রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই মিলেছে।

সদ্য অনুপ্রবেশ করা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে এসেছেন। বর্ডার পার হতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের চক্রকে টাকা দিতে হয়েছে। আর সীমান্তবর্তী স্থল ও নাফ নদ পার করে নাইক্ষ্যংছড়ি, তুমব্রু ও টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছেন তারা।

নাফ নদে রোহিঙ্গা পারাপারের দালালচক্র গড়ে উঠেছে বলে স্বীকার করেছেন টেকনাফের নৌ-পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক তপন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধের সুযোগে কিছু দালালচক্র রোহিঙ্গা পারাপার করছে বলে খবর শুনছি। আমরা সেসব দালালকে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করছি। এ ছাড়া নাফ নদ দিয়ে যাতে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা টহল অব্যাহত রেখেছি; কিন্তু আমাদের জনবল সংকটের পাশাপাশি নৌযান না থাকায় যখন-তখন অভিযানে নামতে পারি না।’

রাখাইন থেকে প্রথমে হেঁটে নাফ নদের ওপারের তীরে আসেন রোহিঙ্গারা। ওই নদের তীরে নৌকা নিয়ে বসে থাকে দালালরা। এপারে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে থাকে দালালদের অপর চক্র। রাতে দুই পারের দালালরা টাকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢোকাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালালরা ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তে রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে এ অবৈধ পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কাজে সীমান্তের অন্তত ২০ জনের বেশি নাম পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, সাবরাং নোয়াপাড়ায় এক নৌকার মাঝির বাড়িতে ৪-৫ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। ওই নৌকার মাঝি বলেন, দালালরা এই রোহিঙ্গাদের আমার নৌকায় করে নিয়ে এসেছে। এরপর আমার বাড়িতে রাখতে বলেছে। তাদের কথা না শুনলে বা তাদের নাম বললে আমাকে জানে মেরে ফেলবে।’

সাবরাং ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, দালালরা রোহিঙ্গা নিয়ে আসছে, পুলিশের মানব পাচার তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। অনেকের নামে মামলাও আছে। এসব দালাল ১৬টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা নিয়ে আসছে।

দালালদের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তের এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী (দালাল) আবির্ভাব যাতে না ঘটে, সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাজ করছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব।’

সম্প্রতি শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক স্বজনের সঙ্গে একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন মোহাম্মদ সাজে। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে নৌকায় আরও ১২ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এই রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, ‘আমার বাড়ি বুথিডাংয়ে। সেখানে যুদ্ধে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার বাবা মর্টার শেলের আঘাতে নিহত হয়েছেন। আরাকান আর্মি গ্রামে প্রবেশ করে এক ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে গ্রামটি খালি করতে বলে। গ্রাম না ছাড়লে সবাইকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। কিছু খাবার নিয়ে আমরা গ্রাম ছেড়ে চলে আসি।’

অনুপ্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আমির জাফর বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ চলছে, ফলে সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সেখানে টিকে থাকতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা এখানে (বাংলাদেশ) আসার চেষ্টা করছে, কেউ কেউ হয়তো ঢুকেছে।’

কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের নেতা মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘আমরা যেভাবে জীবনযাপন করছি, তা মোটেও ভালো নয়। তবে রাখাইনে রোহিঙ্গারা মৃত্যুর মুখোমুখি, তাই পালিয়ে এখানে নিরাপদ আশ্রয়ে আসার চেষ্টা করছে। এ সুযোগে দালালরা বাণিজ্য করছে।’

সীমান্ত অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট