মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা: ‘আমলারা সবাই চোর’—এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা: ‘আমলারা সবাই চোর’—এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন?

​নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​প্রায় ২০ বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখন দেশের ঘাড়ে মাথাপিছু প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। ড. ইউনূসের সময় থেকেই বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা। তার ওপর ইউক্রেন-রাশিয়া এবং ইরান-ইসরাইল-আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে চলছে জ্বালানি সংকট। সেই বৈশ্বিক সংকটের ঢেউ বাংলাদেশেও আছড়ে পড়ায় কলকারখানার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

​ঠিক এমন এক কঠিন সময়ে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা ভাবতে শুরু করেছেন; তখন দিল্লিতে বসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে। ফ্যাসিলিটি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খনন, অবৈতনিক নারী শিক্ষার মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলো এরই অংশ। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে খাদের কিনার থেকে তুলে এনে গতিশীল করার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একাধিকবার সবাইকে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

​এমনি এক সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমাদের…অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।” তার এ বক্তব্য গণমাধ্যমগুলোতেও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং টেলিভিশনের টকশোগুলোতেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

​স্পিকারের বক্তব্য নিয়ে আমলাদের মধ্যে যখন অসন্তোষ ও কানাঘুষা চলছে, ঠিক তখনই গত ১৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে এক মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হলো বক্তৃতা দেওয়া। সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা।” দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও স্পিকারের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কতটুকু যৌক্তিক? রাজনীতিকরা নির্দেশ দেন আর আমলারা তা বাস্তবায়ন করেন। ফলে আমলারাই হলেন প্রশাসনের প্রাণ। আমলাদের বাদ দিয়ে প্রশাসনকে গতিশীল করা কি আদৌ সম্ভব?

​এটি সত্য যে, শেখ হাসিনা ১৫ বছর ৮ মাসের শাসনামলে গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করে গেছেন, ফলে সতর্কতা অবশ্যই আবশ্যক। কিন্তু এমন অবস্থায় নানা মত ও পথের আমলাদের অনুপ্রাণিত করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার সংকল্পে আবদ্ধ করার পরিবর্তে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কেন অযাচিত বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন? আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে—সিভিল প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক সবাই নিজেদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ। সরকার যখন আমলাদের সতর্কতার সাথে পরিচালনা করে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে পারে, তখন এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে প্রশাসনকে উল্টো উসকে দিচ্ছে।

​এ প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮ আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা)-এর সতর্কবার্তাটি বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। বিদেশে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “এই দলের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে… আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন।”

​বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নে যারা দলে এসেছেন, তাদের সবার রাজনৈতিক পটভূমি এক নয়। কিন্তু যেভাবেই আসুন না কেন, বর্তমান সময়ে সবার উচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করা। ক্ষমতা গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে তাঁর রাজনৈতিক আচরণ এবং বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়েছে। তাঁর সাদামাটা পোশাক, ব্যক্তিগত জীবনযাপন, দাফতরিক কাজে অপ্রয়োজনীয় ‘মাননীয়’ শব্দের ব্যবহার পরিহার, প্রটোকল কমানো এবং সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এড়ানোর সিদ্ধান্তগুলো চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি, আক্রমণ-পালটা আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের অপসংস্কৃতি পরিহার করে তিনি শালীন ও গঠনমূলক রাজনীতির নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী-এমপিদের উচিত তাঁকে অনুসরণ করা।

​দেশি-বিদেশি শত্রুরা যখন নানা ফর্মে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তখন অযাচিতভাবে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধ বাধিয়ে বা ঢালাওভাবে ‘আমলারা চোর’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনকে গতিশীল করা সম্ভব নয়। অতীতেও এটি সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। বরং আচরণ ও শিষ্টাচারের মাধ্যমে আমলাদের দিয়ে প্রত্যাশিত কাজ আদায় করে নেওয়াই হলো যোগ্য নেতৃত্বের পরিচয়।

  1. ​প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের দিকে তাকালে আমরা দেখি, ওই সময় আমলাদের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ছিলেন ভিন্ন মতাদর্শের। তবুও জিয়াউর রহমান তাঁর নেতৃত্বের জাদুবলে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী-এমপি করে সেই আমলাদের দিয়েই জাতীয়তাবাদী ধারায় প্রশাসনকে গতিশীল করতে সফল হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ জেড এম নাছিরুদ্দীনের মতে, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিরল ও অনুকরণীয় সৎ রাষ্ট্রনায়ক… প্রশাসনকে তিনি জবাবদিহিমূলক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী করেছিলেন।”

​বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যেও সেই নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি দৃশ্যমান। তাই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে ক্যাবিনেট সদস্য, স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের উচিত তাঁকে অনুসরণ করা। মনে রাখতে হবে, একদিকে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত, অন্যদিকে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগের অপেক্ষায় বসে আছে। এমন অবস্থায় নিজেদের মধ্যে বিভেদ নয়, আমলাদের ঢালাও অপমান নয়; বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ার কাজে ব্রতী হওয়াই হোক আগামী দিনের লক্ষ্য।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট