রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়ে সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে আরও তহবিল দিচ্ছে সুইডেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এস আলম, ব্রিটিশ উকিলদের এক মাসের বিলই প্রায় ৫ কোটি টাকা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে নির্দেশনা জোরদার সপ্তাহে একবারের ইনসুলিন চালু ভারতে, কমবে খরচ ও ইনজেকশনের ঝামেলা সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে চায় সরকার দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

শূন্যরেখায় মানুষ: পরিচয়হীনতার নির্মম বাস্তবতা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

শূন্যরেখায় মানুষ: পরিচয়হীনতার নির্মম বাস্তবতা

বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এক অনিশ্চিত প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণ—একজন মানুষ, যার পরিচয় এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত থেকে ‘পুশ-ইন’ করার পর তিনি এসে পড়েছেন সীমান্তের সেই ভয়ংকর মাঝখানে—যেখানে মাটি আছে, কিন্তু রাষ্ট্র নেই; যেখানে মানুষ আছে, কিন্তু নাগরিকত্ব নেই।
একদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, “তুমি ভারতের নাগরিক।” অন্যদিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, “তুমি বাংলাদেশের নাগরিক।” এই দ্বৈত অস্বীকৃতির মধ্যে আটকে পড়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণ হয়ে উঠেছেন এক জীবন্ত প্রশ্ন—রাষ্ট্র কি মানুষের জন্য, নাকি মানুষই রাষ্ট্রের বোঝা?
পরিচয়হীনতার দুঃসহ বাস্তবতা
শূন্যরেখা—যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ নামে পরিচিত—সাধারণত সামরিক ও কূটনৈতিক সীমারেখা। কিন্তু এই নির্জন ভূখণ্ডে যখন একজন মানুষ আটকা পড়ে, তখন সেটি কেবল ভৌগোলিক সীমা থাকে না; হয়ে ওঠে মানবিক সংকটের প্রতীক।
ষষ্ঠীর মতো মানুষদের কোনো দেশ স্বীকার না করলে তারা হয়ে পড়ে কার্যত রাষ্ট্রহীন (stateless)। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু বাস্তবে এই অধিকার অনেক সময়ই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।
‘পুশ-ইন’ সংস্কৃতি: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
সীমান্ত এলাকায় ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বহুবার অভিযোগ করেছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়। এর ফলে তারা আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণের ঘটনাও সেই পুরনো চিত্রেরই পুনরাবৃত্তি। তিনি অপরাধী কি না, তার কোনো নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও তাকে দুই রাষ্ট্রই দায় নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাষ্ট্র বনাম মানুষ: দায় কার?
প্রশ্ন উঠছে—একজন মানুষের নাগরিকত্ব নির্ধারণের দায়িত্ব কার? রাষ্ট্র যদি এই দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, তাহলে সেই মানুষটির ভবিষ্যৎ কোথায়?
জাতিসংঘের বিভিন্ন কনভেনশন রাষ্ট্রহীনতা কমানোর কথা বললেও বাস্তবতায় সীমান্ত রাজনীতির কাছে মানবিকতা অনেক সময়ই পরাজিত হয়।
ক্ষোভের ভাষা: এক হতাশ মানবতার প্রতিধ্বনি
এই নির্মম বাস্তবতার মধ্যেই উচ্চারিত হয় এক তীব্র ক্ষোভের বাক্য—
“পুরো পৃথিবীতে গজব নেমে আসুক, মনুষ্য জাতি নিপাত যাক। পুরো পৃথিবীটা শূন্য লাইনে পরিণত হোক।”
এই বক্তব্য কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি এক গভীর হতাশা, যেখানে মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত মনে করে। যখন রাষ্ট্র, আইন, মানবতা—সবকিছু ব্যর্থ মনে হয়, তখনই এমন চরম হতাশা জন্ম নেয়।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত যৌথ যাচাই (joint verification) প্রক্রিয়া চালু করা জরুরি, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যায়। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলা দুই দেশেরই দায়িত্ব।

ছবির সংগৃহীত
ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণের মতো একজন মানুষ শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন—সভ্যতার অগ্রগতি সত্ত্বেও আমরা এখনও পরিচয়, সীমানা এবং দায়িত্ববোধের সংকট থেকে মুক্ত হতে পারিনি।
যে পৃথিবীতে একজন মানুষ নিজের দেশ খুঁজে পায় না, সে পৃথিবী আসলে কতটা মানবিক—এই প্রশ্নই আজ সবচেয়ে বড় হয়ে

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews