1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। - আদালত বার্তা
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাইব্যুনালে এলেই অসুস্থতা: বিচার এড়াতে ‘রোগের নাটক’, বলছে প্রসিকিউশন ঢাকায় সাংবাদিকতা সম্মেলনে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের তাগিদ ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ঘিরে পাকিস্তানের নতুন বার্তা, হাইকোর্টে একদিনে ৫ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি চীন সফরে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী — তিস্তা সমস্যা নিয়ে ভারতের জন্য বসে থাকা চলবে না বাংলাদেশে কেমিক্যালমুক্ত আম: নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা, হচ্ছে যাচাই-বাছাই প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার ঢাকার রাস্তায়  ট্রাফিক সিস্টেমে নতুন  বাস্তবতা AI ক্যামেরা। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দীর্ঘ কারাবাস:আইনের অপব্যবহার নিয়ে আইনজীবীদের উদ্বেগ।

সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে
  • সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সম্পাদক আদালত বার্তাঃ২০ এপ্রিল ২০২৬।

সংসদে তথ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা বর্তমান গণমাধ্যম পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত উদ্যোগ। ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুল তথ্য, অপপ্রচার এবং অনিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতার ঝুঁকিও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন একটি উদ্যোগের পেছনে যেমন যৌক্তিকতা রয়েছে, তেমনি এর কিছু সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
প্রথমত, এই পরিকল্পনার সুবিধার দিকটি বিবেচনা করলে দেখা যায়—সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার আওতায় আনলে পেশাগত মান উন্নত হতে পারে। সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়বে। এতে করে ভুয়া সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকলে প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, যা নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন মিডিয়ার বিস্তারের এই সময়ে, কে প্রকৃত সাংবাদিক আর কে নয়—তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, এই উদ্যোগের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। সাংবাদিকতা একটি সৃজনশীল ও অভিজ্ঞতানির্ভর পেশা; এখানে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করলে অনেক অভিজ্ঞ ও দক্ষ কিন্তু প্রথাগত ডিগ্রিহীন সাংবাদিক বাদ পড়ে যেতে পারেন। এতে গণমাধ্যমের বহুমাত্রিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে তা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে ওঠার আশঙ্কাও থেকে যায়। ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনাটি আরও সংবেদনশীল। দেশে একদিকে যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের জন্য একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন হলেও, তা যেন স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার পরিপন্থী না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে, যদি তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট