1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট - আদালত বার্তা
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাজী নিয়োগে ৩ সদস্যের প্যানেল থেকে সিদ্ধান্তে গড়িমসি বেআইনি—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ আবেগ নয়, আইনের পথে: মামলা করার আগে পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন’ উদ্বোধন: সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত বিয়ে করে অপরাধ করেননি নাসির-তামিমা: খালাসের রায়, আপিলের ঘোষণা বাদীপক্ষের। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আজ একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে নাসির-তামিমা-রাকিব মামলায় বিচারের রায় আজ। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ’লীগ নেতাকর্মীরা: তথ্য উপদেষ্টা স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায় স্থগিত: আপিল শুনানি ১৬ জুন শেখ হাসিনাসহ অনেকেরই আপিলের সময় শেষ, দণ্ডিতদের সামনে এখন কোন পথ? “আইন জানুন, সচেতন থাকুন” — অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে অধিকার রক্ষার আলোয় পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, যেখানে সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা ও উদ্ভাবনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো—এই দেশে সৃজনশীল মানুষের টিকে থাকা প্রায়শই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণগুলো বহুমাত্রিক এবং গভীরভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।
প্রথমত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃজনশীল মানুষের সবচেয়ে বড় বাধা। একজন শিল্পী, লেখক, সংগীতশিল্পী বা উদ্ভাবক নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। ফলে তারা জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন, যা তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
দ্বিতীয়ত, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় সৃজনশীল পেশাকে ‘অনিশ্চিত’ বা ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে দেখা হয়। পরিবার ও সমাজ থেকে পর্যাপ্ত উৎসাহ না পাওয়ায় অনেক প্রতিভা অকালেই হারিয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যাটি আরও প্রকট।
তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে শিল্প ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দিতে সরকারি অনুদান, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাজার তৈরি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের সুযোগ সীমিত। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
চতুর্থত, মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় প্রকৃত সৃজনশীল ব্যক্তি অবমূল্যায়িত হন, আর যোগ্যতার পরিবর্তে প্রভাব বা পরিচিতির ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হয়। এতে করে প্রতিভাবানদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল মানুষ তাদের কাজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারছেন। ইউটিউব, ফেসবুক, ব্লগিং বা ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন।
সমাধানের পথ
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কিছু পদক্ষেপ জরুরি—
সৃজনশীল পেশাকে সম্মানজনক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
সরকারি অনুদান ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করা
শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া
মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা
সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পখাতকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা

সৃজনশীল মানুষ একটি জাতির আত্মা। তাদের চিন্তা, কাজ ও উদ্ভাবনই একটি দেশকে এগিয়ে নেয়। তাই “সৃজনশীল মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টকর”—এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা সময়ের দাবি। সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারি, যেখানে সৃজনশীলতা শুধু টিকে থাকবে না, বরং বিকশিত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট