
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের (Police Clearance/Verification) সম্মুখীন করাকে 'সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন' বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ পদাধিকারবলে কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী, বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এই প্রক্রিয়ায় কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উক্ত সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী অপ্রত্যাশিত জটিলতার সম্মুখীন হন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক বাধা চ্যালেঞ্জ করে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছিলেন, বৃহস্পতিবার সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করা হলো।