অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এখন ‘নোট বাণিজ্য’ মুক্ত: রুহুল কুদ্দুস
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা
দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘নোট বাণিজ্য’ ও দুর্নীতির অপবাদ থেকে বাংলাদেশ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এখন সম্পূর্ণ মুক্ত বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার এই কার্যালয়ে দুর্নীতি, ঘুষ বা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র স্থান আর নেই।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনাঙ্গনে ‘নোট বাণিজ্য’ বলতে মূলত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ভয় দেখিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা আদায়ের অনৈতিক চর্চাকে বোঝানো হয়। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নিয়ে অতীতে অনেক ধরনের অভিযোগ ছিল। তবে নতুন আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আমরা অনেকাংশেই এসব নেতিবাচক অভিযোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছি। বিশেষ করে নোট বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি অফিস এখন পুরোপুরি মুক্ত।"
‘স্ট্রেংথেনিং দ্য প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব প্রসিকিউশন এথিকস ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেল’স অফিস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এই কর্মশালায় কার্যালয়ের ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো নৈতিকতা বিষয়ে এ ধরনের উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলো।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ।
কর্মশালায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন করা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো স্থান এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে না। সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।"