নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তা ঢাকা:১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
আদালতের কোনও রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের ধর্মঘট বা হরতাল ডাকাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগসহ দলটির সকল অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা অপর একটি রিট ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ ও আদালতের নির্দেশনা
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় মেনে চলা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে; কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কেউ ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে (বিআরটিসি) তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই বাসের চালককে সাজা প্রদান করেন।
কিন্তু আদালতের এই সাজার প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট ও হরতালের ডাক দেয় বাস মালিক ও শ্রমিকরা। জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে এইচআরপিবি।
পূর্ববর্তী আদেশ ও চূড়ান্ত রায়
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১লা মার্চ হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। রুলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বানকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের ওই কঠোর নির্দেশের পরদিনই পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন পর ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার রুলটি যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দিলেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, "সংবিধান অনুযায়ী আদালতের রায় ও নির্দেশনা মানতে সকল কর্তৃপক্ষ বাধ্য। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে চালককে সাজা দেয়ার প্রেক্ষিতে মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের
আদেশের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। এর মাধ্যমে নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতা, যা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, তা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।"