
আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাঃ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
'আদালত অবমাননা'র (Contempt of Court) অভিযোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করেছে ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই তলবের আদেশ দেওয়া হয়। দেশের শীর্ষ আদালতের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং তলবের ঘটনায় আদালত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই তলব আদেশের প্রেক্ষিতে এখন উক্ত দুই আইনজীবীকে নির্ধারিত তারিখে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা বা কারণ দর্শাতে হবে। কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেটি প্রমাণ করার আইনি সুযোগ তারা পাবেন।
কী আছে 'আদালত অবমাননা' আইনে?
বাংলাদেশে আদালত অবমাননার বিচারের ক্ষেত্রে মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রণীত 'আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬' (The Contempt of Courts Act, 1926) বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এ বিষয়ে একটি নতুন আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হলেও, পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট আইনটির প্রধান কয়েকটি ধারাসহ আইনটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এর ফলে ১৯২৬ সালের আইনটিই এখনও বহাল রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্ট তার অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশ প্রদানের ক্ষমতাসহ আদালত অবমাননার বিচার করার বিশেষ অধিকার রাখে।
সাধারণত আদালত অবমাননাকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. দেওয়ানি অবমাননা (Civil Contempt): আদালতের কোনো রায়, ডিক্রি, নির্দেশ, বা আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে তা দেওয়ানি অবমাননা হিসেবে গণ্য হয়।
২. ফৌজদারি অবমাননা (Criminal Contempt): আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা জনসমক্ষে আদালতকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কোনো কাজ, বিচারিক কার্যক্রমে অন্যায্য হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর বা পক্ষপাতমূলক মন্তব্য করলে তা ফৌজদারি অবমাননার আওতায় পড়ে।
সম্ভাব্য শাস্তি ও আইনি পরিত্রাণ
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত অবমাননার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
তবে, এ আইনের অধীনে অভিযুক্তদের জন্য একটি বিশেষ আইনি পরিত্রাণের সুযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আদালতের কাছে নিজের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে বিচারক সন্তুষ্ট হলে তাঁকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিতে বা কেবল সতর্ক করে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
ট্রাইব্যুনালে তলব হওয়া সুপ্রিম কোর্টের ওই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী শুনানির পর এ বিষয়ে আরও বিশদ তথ্য জানা যাবে।