আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুদক, সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে দেশে ও বিদেশে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, টেন্ডার-বাণিজ্যসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি দেশ ছাড়লে আইনি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দুদক। এ কারণে তার বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুতই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।
দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী— দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে ভিলা, জমি ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থপাচারসহ দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি দিয়েছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালাম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএফআইইউর কাছে চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা চলতি,
সুপ্ত বা বন্ধ হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র। পাশাপাশি উল্লিখিত পাঁচ দেশে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনসংক্রান্ত রেকর্ডপত্রও চাওয়া হয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওইসব দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত তথ্যও তলব করা হয়েছে চিঠিতে।