নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা
ঢাকা | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চাঞ্চল্যকর এই রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রায়ের অন্যতম একটি যুগান্তকারী দিক হলো—আদালত ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজেয়াপ্তকৃত এসব সম্পত্তি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ককটেল বিস্ফোরণ ও নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে, ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতির প্রবেশপথের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দিনের ব্যস্ত সময়ে এমন বিস্ফোরণে আদালত প্রাঙ্গণে সাময়িক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, কে বা কারা অতর্কিতভাবে ককটেলটি ছুড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পরপরই পুরো সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করে চিরুনি তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট
জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ এই নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৮ আগস্ট আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। পরবর্তীতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (মঙ্গলবার) ধার্য করা হয়েছিল।