কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ৬ অক্টোবর ২০২৬
কর জাল সম্প্রসারণ, আয়কর রিটার্ন বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্ভাব্য করদাতা শনাক্ত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক হিসাব, ভূমি ও ফ্ল্যাট, সড়ক পরিবহন, সঞ্চয়পত্র এবং বিদেশ ভ্রমণের তথ্য এনবিআরের মূল তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এনবিআর সূত্র জানায়, বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে এআইয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য করদাতাদের শনাক্ত করা হবে।
বিআরটিএ ডাটাবেজ ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপর নজরদারি
কর ফাঁকি রোধে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপর। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি নিবিড়ভাবে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তির নামে দামি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন কি না, অথবা রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের সঙ্গে গাড়ির ক্রয়মূল্যের সংগতি রয়েছে কি না—তা এখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই কর কর্মকর্তাদের নজরে আসবে।
তথ্য গোপনের সুযোগ কমছে
নতুন এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তির আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাট, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ও বিদেশ ভ্রমণের তথ্য মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে। এর ফলে আয় গোপন করা কিংবা প্রকৃত সম্পদের চেয়ে কম সম্পদ দেখানোর প্রবণতা সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান চিত্র
বৈঠকে রাজস্ব আহরণ, কর-জিডিপি অনুপাত, শুল্ক ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা এবং কর ফাঁকি রোধে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান রাজস্ব চিত্রের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে যন্ত্রনির্ভর নিরীক্ষা
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২ শতাংশেরও কম করদাতা ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার আওতায় আসেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে যন্ত্রনির্ভর পদ্ধতিতে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার জন্য করদাতা নির্বাচন করা হচ্ছে, যাতে কর কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ না থাকে।
অর্থনীতিবিদরা এনবিআরের এই অটোমেশন উদ্যোগকে
স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে করের ভিত্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এই প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই করদাতাদের হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।