কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে সাত দফা নির্দেশনা: কারা অধিদপ্তরের কঠোর পদক্ষেপ
আদালত বার্তা ডেস্কঃ৬ নভেম্বর ২০২৬
দেশের সকল কারাগারে নিরাপত্তা ত্রুটি দূরীকরণ, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা কঠোর নির্দেশনার আলোকে মাঠে নেমেছে কারা অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্দেশনার প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে কারা সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, কারাগারগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপারেশনাল শাখাকে পর্যবেক্ষণের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যারা সারাদেশের সংশোধনাগারগুলো নিবিড় নজরদারিতে রাখবেন।
নির্দেশনার মূল সাত দফা ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
১. লক-আপ পরবর্তী কার্যক্রমে কঠোরতা: উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট লিখিত অনুমতি ছাড়া লক-আপ পরবর্তী যেকোনো ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলারের লিখিত অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (মনিটরিং রুম) তৈরি করে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ কারারক্ষীদের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. অননুমোদিত অনুপস্থিতিতে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স): দায়িত্বের স্থান ত্যাগ কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীল নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দায়িত্ব ফাঁকি দেওয়া বা অনুমতি ছাড়া পোস্ট ত্যাগের ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা: কোনো পাহারাদার বা কর্মীর অবহেলা বা অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট প্রদানে কালক্ষেপণ করা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
৫. পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শাস্তিমূলক বদলি: যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে বারবার অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের জন্য কাউন্সেলিং ও পুনঃপ্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক স্বার্থে দোষী সাব্যস্ত কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলি এবং বিদ্যমান প্রবিধান অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।
৬. প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ সতর্কতা: বৃষ্টি, বজ্রপাত বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নিরাপত্তা ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্ধারিত নিরাপত্তা চৌকিতে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৭. নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন: কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রহরীদের তৎপরতা সরেজমিনে পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কারা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরণের অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সমগ্র কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই কঠোর ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কারা অধিদপ্তর।