শিশুদের নিকটাত্মীয় বা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা, ১২ই অক্টোবর ২০২৬
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় এবং তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য এসব শিশুকে তাদের পছন্দের নিকটাত্মীয় অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
হাইকোর্টে দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে কারাগারে অবস্থানরত এসব শিশুর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শিশুদের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তাদের কারাগারের বাইরে উপযুক্ত পরিবেশে রাখা জরুরি।
প্রেক্ষাপট ও রুল জারি
এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ১৫ জুন একটি আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের
সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও বয়সের বিবরণ জানতে চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন তলব করেন (যা এখনও দাখিল করা হয়নি)।
একইসঙ্গে, কারাগারে থাকা এসব শিশুর নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সঠিক বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। জানা গেছে, অবকাশকালীন ছুটির পর এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র
কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯ জন শিশু ছিল। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৩০৩ বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এসব শিশুর মায়েদের কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কারও মামলা বিচারাধীন। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগ নারীই মাদক মামলার আসামি।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কারাগারে সর্বোচ্চ ১০০ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮টি কারাগারে ২৫ জন, রংপুর বিভাগের ৮টি কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০ জন, সিলেট বিভাগের ৫টি কারাগারে ১৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কারাগারে ১৩ জন এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি কারাগারে ৪ জন শিশু রয়েছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু অবস্থান করছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। শিশুদের ভবিষ্যত ও মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত এ বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।