কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
নিজ ফ্ল্যাটে গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত
আদালত বার্তা ডেস্ক:২৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর বাজার এলাকায় নিজ ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমা নামে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে তিনি যুব মহিলা লীগের বাস্তা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রসুলপুর বাজারের সোনালী ব্যাংক ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গলা, মুখ ও কানের কাছে একাধিক আঘাতের চিহ্নের কথা পুলিশের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একাই বসবাস করতেন ডালিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডালিয়া আক্তার সুমা তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি সেখানে একাই থাকতেন। নিহতের বাবার নাম লিয়াকত শিকদার বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, তিনি চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও একাধিক সংবাদমাধ্যমে তাঁকে বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড?
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানিয়েছেন, কে বা কারা ওই নারীকে হত্যা করেছে, কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করেছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বয়স ও পরিচয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অমিল
ডালিয়া আক্তার সুমার বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৫০ বছর, আবার একটি প্রতিবেদনে ৪৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে তাঁর কর্মস্থল সম্পর্কেও প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নথি বা পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এসব তথ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তদন্ত
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে হত্যাকাণ্ডটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবি এখনো তদন্তে প্রমাণিত নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশের বক্তব্য হলো—নিহতের রাজনৈতিক পরিচয়, হত্যার উদ্দেশ্য এবং হত্যাকারীদের শনাক্তকরণসহ পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।
অতএব, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিকে জড়িত বলে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে আলামত
ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আশপাশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
একজন নারীকে নিজ বাসস্থানে এভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিহতের কন্যা
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুমাননির্ভর রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে ময়নাতদন্ত, ক্রাইম সিনের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধানের ফলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক বা রাজনৈতিক—যে কারণই থাকুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব।