ক্ষমতা নয়, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি
অতীতের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির পথরেখা
বিশেষ প্রতিবেদন | আদালত বার্তাঃ২০ আগষ্ট ২০২৬
রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ—কিন্তু ক্ষমতা কোনো সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি নয়। একটি সরকারের প্রকৃত শক্তি হলো জনগণের আস্থা। আইন, প্রশাসন, পুলিশ, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে একটি সরকার কিছু সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন মানুষের বিশ্বাস, গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণ।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বহু দেশে শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্র থাকা সত্ত্বেও জনগণের আস্থা হারানোর পর সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়েছে। বিপরীতে, যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, সেখানে সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাই একটি প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—রাষ্ট্রের ক্ষমতা কি জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, নাকি জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করার জন্য?
আস্থার সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আস্থা কোনো বিমূর্ত রাজনৈতিক শব্দ নয়। এটি রাষ্ট্রের কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নাগরিক যখন বিশ্বাস করেন যে আইন সবার জন্য সমান, প্রশাসন নিরপেক্ষ, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন এবং সরকারি অর্থ জনগণের স্বার্থে ব্যয় হচ্ছে—তখন রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, যখন নাগরিক মনে করেন ক্ষমতাবানদের জন্য এক আইন আর সাধারণ মানুষের জন্য আরেক আইন, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ক্ষয়ে যেতে থাকে।
দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের A Survey of the Bangladeshi People 2024 অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। সেনাবাহিনীকে ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা উচ্চমাত্রার সততার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেছেন; বিপরীতে রাজনৈতিক দলকে মাত্র ২২ শতাংশ এবং পুলিশকে ২০.৫ শতাংশ এমন উচ্চ আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করেছেন। বিচারব্যবস্থা—আদালত, বিচারক ও আইনজীবী—সম্পর্কে এই হার ছিল ৩৮.২ শতাংশ।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো—২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদ, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সূচকে পতনের কথা ওই জরিপে উঠে এসেছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কেবল কে ক্ষমতায় থাকবে—এটি নয়; বরং কে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে পারবে—সেটিই বড় প্রশ্ন।
অতীতের শিক্ষা: ক্ষমতার স্থায়িত্ব আর গ্রহণযোগ্যতা এক বিষয় নয়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখা এবং জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ক্ষমতা প্রশাসনিক নির্দেশে পরিচালিত হতে পারে। কিন্তু জনগণের মন নির্দেশ দিয়ে জয় করা যায় না।
একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে, কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক আচরণ, নির্বাচনব্যবস্থা, বিরোধীদের প্রতি আচরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত দলটির প্রতি জনগণের মূল্যায়ন নির্ধারণ করে।
তাই রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু জনগণের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী।
কোনো সরকার উন্নয়ন করলে জনগণ তা মনে রাখে; আবার কোনো সরকার মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে সেটিও জনগণের রাজনৈতিক স্মৃতিতে থেকে যায়।
২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতা: নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশ
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সামনে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি—UNDP-এর একটি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও ডিজিটাল অপপ্রচার মোকাবিলাকেও গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—রাষ্ট্র সংস্কার কেবল আইন পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি নাগরিকের রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তনের বিষয়।
নতুন আইন করা গেল, নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা গেল, নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা গেল—কিন্তু মানুষ যদি মনে করেন পুরোনো সংস্কৃতিই নতুন নামে ফিরে এসেছে, তাহলে সংস্কারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
তথ্য-উপাত্ত কী বলছে?
বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের বাংলাদেশ কান্ট্রি সার্ভেতেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে জরিপে ৩১৫টি বৈধ উত্তর পাওয়া যায়; এর মধ্যে ১৫.৬ শতাংশ উত্তরদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সর্বোচ্চ মাত্রার আস্থা—১০/১০—প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাংক সম্পর্কেও ১১.৬ শতাংশ উত্তরদাতা ১০/১০ এবং ১৯.৯ শতাংশ ৯/১০ আস্থা জানিয়েছেন। তবে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব সতর্কীকরণ অনুযায়ী, এসব নমুনাকে পুরো বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় জনমত জরিপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
এই সতর্কতাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে একটি ছোট বা নির্দিষ্ট নমুনার জরিপকে পুরো জনগণের মতামত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে বিভিন্ন গবেষণা যখন একই ধরনের প্রবণতা দেখায়, তখন তা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হয়ে ওঠে।
জনগণের আস্থা কীভাবে তৈরি হয়?
জনগণের আস্থা বক্তৃতা দিয়ে তৈরি হয় না; তৈরি হয় বাস্তব অভিজ্ঞতায়।
একজন নাগরিক থানায় গিয়ে ন্যায়সংগত আচরণ পেলেন কি না, আদালতে দ্রুত বিচার পেলেন কি না, ভূমি অফিসে হয়রানি ছাড়াই সেবা পেলেন কি না, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেন কি না, সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন হলো কি না—এসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতার সমষ্টিই রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা তৈরি করে।
অর্থাৎ—
ভালো শাসন → ভালো সেবা → ন্যায়বিচার → জবাবদিহি → আস্থা।
আবার—
দুর্নীতি → বৈষম্য → রাজনৈতিক পক্ষপাত → বিচারহীনতা → অনাস্থা।
এই সমীকরণটি কোনো একটি সরকারের জন্য নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বজনীন বাস্তবতা।
ক্ষমতার সবচেয়ে বড় ভুল কোথায়?
ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল হতে পারে—জনগণের সমর্থনকে স্থায়ী সম্পদ মনে করা।
আজ যে জনগণ কোনো দলকে ভোট দিয়েছে, আগামীকাল তারাই প্রশ্ন তুলতে পারে। আজ যে জনগণ কোনো সরকারের প্রশংসা করছে, আগামীকাল তারা তার নীতির বিরোধিতা করতে পারে।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই।
জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। রাজনৈতিক দল ও সরকার হলো জনগণের কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি।
তাই ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ হওয়া উচিত কর্তৃত্ব নয়, দায়িত্ব।
রাষ্ট্রের শক্তি বনাম সরকারের শক্তি
একটি শক্তিশালী সরকার এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র এক জিনিস নয়।
সরকার শক্তিশালী হতে পারে প্রশাসনিক ক্ষমতায়। কিন্তু রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দিয়ে।
যে দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও আদালত কার্যকর থাকে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে, প্রশাসন পেশাদার থাকে, পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করে, গণমাধ্যম প্রশ্ন করতে পারে এবং নাগরিক তার অধিকার নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে—সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী।
এই কারণেই ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সরকারি ক্রয়, অডিট, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তথ্যের মান উন্নয়নে সহায়তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এবং জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: আস্থার রাজনীতি নাকি ক্ষমতার রাজনীতি?
আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা সম্ভবত শুধু ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা হবে না; বরং কে বেশি বিশ্বাসযোগ্য—তার প্রতিযোগিতা হবে।
নতুন প্রজন্ম জানতে চাইবে—
নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্য কতটা?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কি দল-মত নির্বিশেষে হবে?
বিচার কি ধনী-গরিবের জন্য সমান?
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত?
সংবাদমাধ্যম কি স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারবে?
সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব কি জনগণ জানতে পারবে?
ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কি তদন্ত হবে?
এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে না।
ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, যা কোনো ব্যক্তি বা দলের ওপর নির্ভরশীল হবে না।
আজ একজন ভালো মানুষ ক্ষমতায় আছেন—এটি সুখবর। কিন্তু রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এমন হওয়া উচিত নয় যে ভালো মানুষ না থাকলে প্রতিষ্ঠানও ভালো থাকবে না।
প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ২০২৫ সালের সংস্কার-সংক্রান্ত কাজেও বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংসদীয় সক্ষমতা এবং মানবাধিকার তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এটাই ভবিষ্যতের পথ—ব্যক্তিনির্ভর রাষ্ট্র থেকে প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্রে উত্তরণ।
জনগণের আস্থা হারালে কী হয়?
জনগণের আস্থা হারালে সরকার প্রথমে সমালোচনা হারায় না—হারায় নৈতিক কর্তৃত্ব।
এরপর শুরু হয় অবিশ্বাস।
অবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয় গুজব।
গুজব থেকে জন্ম নেয় রাজনৈতিক বিভাজন।
বিভাজন থেকে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা।
আর দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা রাষ্ট্রের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রশাসন ও সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে।
তাই জনগণের আস্থা কেবল রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক শান্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।
শেষ কথা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের একটি মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে—ক্ষমতা পরিবর্তনশীল, জনগণ স্থায়ী।
একটি সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে, একটি দল কয়েক দশক রাজনীতি করতে পারে; কিন্তু জনগণের আস্থা হারিয়ে গেলে সেই রাজনৈতিক শক্তির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, যে রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির সম্পর্ককে দায়িত্বের সম্পর্ক হিসেবে দেখে, প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে, বিরোধীদের অধিকারকে সম্মান করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং ভুল হলে তা স্বীকার করে—সেই দল ক্ষমতার বাইরে থেকেও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারে।
অতএব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল স্লোগান হওয়া উচিত—
“ক্ষমতা নয়, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
কারণ ক্ষমতা দিয়ে সরকার চালানো যায়,
আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায়,
অর্থ দিয়ে উন্নয়ন করা যায়—
কিন্তু আস্থা ছাড়া একটি জাতিকে দীর্ঘদিন এগিয়ে নেওয়া যায় না।
শেষ পর্যন্ত জনগণই বিচারক। তারা দেখবে কে ক্ষমতায় ছিল—তার চেয়েও বেশি তারা মনে রাখবে কে ক্ষমতায় থেকে তাদের সম্মান করেছে, অধিকার রক্ষা করেছে এবং রাষ্ট্রকে তাদের কাছে জবাবদিহির মধ্যে রেখেছে।
সুতরাং আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি হতে পারে কোনো পদ, মন্ত্রণালয় বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়—জনগণের বিশ্বাস।
আর সেই বিশ্বাস অর্জনের একমাত্র পথ হলো—
ন্যায়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং মানুষের প্রতি সম্মান।