প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১, ২০২৬
জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা: তথ্যমন্ত্রী
-
জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা: তথ্যমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
ঢাকা, ০১ আগস্ট ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই বর্ধিত ও ধারাবাহিক প্রকাশ। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার সূচনা হয়েছিল, জুলাইয়ের আন্দোলন সেই চেতনাকে নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
শনিবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাব মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং জুলাই ২০২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘নাগরিক কণ্ঠ ফোরাম’।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যখনই দেশে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়েছে, তখনই জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ।
ইতিহাস বিকৃতকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইতিহাসকে সাময়িকভাবে বিকৃত করার চেষ্টা করা গেলেও প্রকৃত ইতিহাস শেষ পর্যন্ত নিজস্ব সত্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে একদলীয় শাসন বা বৈষম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, ইতিহাস তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অপচেষ্টা হয়েছে। একইভাবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকেও যেন কোনো গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের আদর্শ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই আন্দোলনকে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি পাহাড়-সমতল, বাঙালি-অবাঙালি এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক মর্যাদার আন্দোলন। ধর্ম, ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সংসদে যুক্তি, তর্ক ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। কিন্তু যারা গণতান্ত্রিক বিতর্ককে সংঘাত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভাজনের অস্ত্রে পরিণত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমগ্র রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তরাধিকার ধারণ
করেই সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে কাজ করছে।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম (মিথিল)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও মাহমুদা হাবিবা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
Copyright © 2026 আদালত বার্তা. All rights reserved.