তথ্য গোপন করে জামিনে
র চেষ্টা: ৩ আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ
আদালত বার্তা ডেস্কঃ৮ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মুগদা থানার বহুল আলোচিত সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার জামিন আবেদনের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন উচ্চ আদালত। প্রতারণামূলকভাবে জামিন হাসিলের চেষ্টার অভিযোগে ৩ আইনজীবী, ৫ আসামি এবং ৩ তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবীকে হাইকোর্ট বিভাগে ১৫ দিন আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ৫ আসামি দেশের কোনো আদালতেই নতুন করে জামিন আবেদন করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া তিন আইনজীবী হলেন—অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ জানান, আইন অনুযায়ী নিম্ন আদালতের একটি নামঞ্জুর আদেশের বিপরীতে একই আসামির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক আবেদন করার সুযোগ নেই। গত রোববার শুনানিকালে আদালতের নজরে আসে, মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশকে কেন্দ্র করে পৃথক তিনটি ফাইল প্রস্তুত করে ভিন্ন ভিন্ন বেঞ্চের কার্যতালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর বেঞ্চ তিনটি আবেদনকে একত্রিত করে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। বুধবার শুনানিতে প্রতীয়মান হয় যে, পাঁচজন আসামির পক্ষে তিনজন পৃথক আইনজীবীর মাধ্যমে একই আদেশের ওপর ভিত্তি করে তিনটি আলাদা আবেদন দায়ের করা হয়েছিল।
আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেন। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ১১ জনকে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতকেও এসব আসামির জামিন সংক্রান্ত কোনো আবেদন গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।