নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন, মধ্যরাতে প্রজ্ঞাপন
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা | ২২ আগস্ট ২০২৬
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, Rules of Business, 1996-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন করে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পেলেন যারা
নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী—
আবদুল মঈন খান — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী
আন্দালিব রহমান পার্থ — তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
রশিদুজ্জামান মিল্লাত — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী
সাচিং প্রু জেরী — পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী
হুমায়ুন কবির — পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন — ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তিনি সরে দাঁড়ান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীও শপথ নেন। এরপরই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেলেন পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বেও এসেছে পরিবর্তন। এতদিন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এ মন্ত্রণালয়ের আগের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)-কে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সেবামূলক মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে নতুন সমন্বয় আনা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে। গত ১ জুন দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর থেকে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য ছিল।
দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের মধ্য দিয়ে সরকারের পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এর আগে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আসায় সরকারের গণমাধ্যমনীতি, তথ্যপ্রবাহ, রাষ্ট্রীয় প্রচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হলেন হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি শামা ওবায়েদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই নতুন দায়িত্ব বণ্টন এমন এক সময়ে হলো, যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়েও নতুন প্রতিমন্ত্রী
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
নতুন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নতুন সমন্বয় প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
সর্বশেষ নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পর সরকারের মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
সর্বশেষ রদবদলকে শুধু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর পূর্বের মন্ত্রণালয় নতুন ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া, কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার মধ্য দিয়ে সরকার প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি নতুন সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পরিবর্তনের ফলে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক যোগাযোগে এর প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।