
নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ 
ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি ‘দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে’ বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করে ‘অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন
দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ‘সহিংস’ হয়ে উঠতে পারে। যার ফলে গ্রেফতার, হতাহত হওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, ‘ইরান সরকার মোবাইল, ল্যান্ডলাইন ও জাতীয় ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করায় যোগাযোগে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
ইরানে ভ্রমণ পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানানো হয়। একাধিক এয়ারলাইনস ইরানে আসা ও যাওয়াও ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করেছে। দূতাবাস জানায়, কয়েকটি সংস্থা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।
মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, সম্ভব হলে স্থলপথে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করতে।
সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়,
এখনই ইরান ছাড়ুন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ইরান ছাড়ার পরিকল্পনা তৈরি করুন।
এছাড়া যারা ইরান ছাড়তে পারছেন না তাদের জন্য নিরাপদ স্থানে অবস্থান, পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘দ্বৈত নাগরিকদের’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দূতাবাস জানায়,
ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং তাদের কেবল ইরানি নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে দ্বৈত নাগরিকদের ইরানি পাসপোর্টে দেশ ত্যাগ করতে হবে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়,
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ইরানে জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতার ও আটক হওয়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দেখালেই তা আটক হওয়ার কারণ হতে পারে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৫৪৪ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৬৮১ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানান, ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প, এমনকি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন। তবে কূটনীতিক সমাধানই ট্রাম্পের ‘প্রথম পছন্দ’ বলে জানান লেভিট।