বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল
গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের প্রশ্নেও নির্দেশনা চাওয়া
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৬
মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান—বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলে একই সঙ্গে এমএফএস খাতের সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পৃথক আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।
রিটের পটভূমি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। তিনি নিজেই আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল আর্থিক সেবার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ জনগণ, বিশেষত নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আদালতের নির্দেশনা
রুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি ও নীতিগত গুরুত্ব
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুলের মাধ্যমে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল এমএফএস খাতের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, গ্রাহকবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার বাড়লেও চার্জ কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
হাইকোর্টের এই রুল এমএফএস খাতে শৃঙ্খলা আনা, গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার এবং একটি সুসংহত আইনগত কাঠামো প্রণয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব ও পরবর্তী শুনানির ওপর নির্ভর করবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা।
