আদালত বার্তা ডেস্ক
ঢাকা | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
আইনি বিধান ও অতীত নজিরের আলোকে সিদ্ধান্ত; অনুমতি মেলেনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি কৌঁসুলি রাখার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আসামিপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আইনজীবীদের সর্বোচ্চ তদারকি ও সনদ প্রদানকারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
আজ বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক নীতিনির্ধারণী সভায় দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে এ আবেদন নাকচ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও অতীতে প্রতিষ্ঠিত নজির বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রাণহানি, দমন-পীড়ন এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপাসহ কয়েকজন শীর্ষ অভিযুক্তের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত। এ সংক্রান্ত প্রধান আইনি ভিত্তিগুলো হলো:
বার কাউন্সিলের সভায় সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিদ্যমান থাকায় বিদেশি কৌঁসুলির প্রয়োজনীয়তা বা বিশেষ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দৃশ্যমান নয়।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ চেয়ে আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতাদের পক্ষে ব্রিটিশ আইনজ্ঞদের নিয়ে আসার আবেদন করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়েও ট্রাইব্যুনাল ও বার কাউন্সিল আইনি নীতি এবং সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতে বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বার কাউন্সিলের আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিযুক্তদের বিদেশি পরামর্শক (Legal Consultant) হিসেবে নথিপত্র তৈরির কাজে বাইরে
রাখার সুযোগ থাকলেও, তারা সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল-জওয়াব বা শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন না।