মৃত বাবার পেনশন প্রতিবন্ধী ছেলেকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্টের রুল জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা, ঢাকাঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৃত সরকারি চাকরিজীবী বাবার পেনশন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে কেন প্রদান করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আবেদন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকসহ মোট আটজন বিবাদীকে (Respondents) এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. পারভেজ এবং তাকে আইনগত সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. খাদেমুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি দিক:
সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মৃত সরকারি কর্মচারীর সন্তান যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হন এবং তিনি উপার্জনে অক্ষম হন, তবে তিনি আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের গুদাম রক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান এবং বিধি অনুযায়ী নিয়মিত পেনশন সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। চলতি বছরের ৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তার স্ত্রীরও মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি তিন মেয়ে ও মো. আশফাকুর রহমান শাওন নামে এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে রেখে যান। আইনি অধিকারের ভিত্তিতে অন্য উত্তরাধিকারীরা (তিন মেয়ে) তাদের প্রতিবন্ধী ভাইকে একক পেনশনভোগী হিসেবে মনোনীত করে অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান করেন।
এরপর পারিবারিক পেনশনের সুবিধা পেতে গত ১৫ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন প্রতিবন্ধী আশফাকুর রহমান শাওন। কিন্তু কোনো প্রকার আইনি ব্যাখ্যার তোয়াক্কা না করে গত ২৭ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান ওই আবেদনটি সরাসরি নামঞ্জুর করেন।
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের এই খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্তের
বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আশফাকুর রহমান। রিটে পেনশন বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন তুলে ধরা হয়।
রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. পারভেজ আদালত বার্তা-কে জানান, "সরকারি বিধিমালায় প্রতিবন্ধী সন্তানদের আজীবন পেনশন পাওয়ার সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ অমানবিক ও বেআইনিভাবে আবেদনটি বাতিল করেছে। মহামান্য আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে সন্তুষ্ট হয়ে এই রুল জারি করেছেন। আমরা আশা করি, রিটকারী তার ন্যায্য আইনি অধিকার ফিরে পাবেন।"