আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা:২৬ অক্টোবর ২০২৬ 
আইনজীবী সনদ স্থগিত বা সমর্পণ না করে অন্য লাভজনক পেশা, চাকরি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আইন পেশা একটি পূর্ণকালীন ও মহৎ পেশা। কিন্তু বর্তমানে বিপুল সংখ্যক তালিকাভুক্ত আইনজীবী বার কাউন্সিলের নিয়ম লঙ্ঘন করে ওকালতির লাইসেন্স বহাল রেখেই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য লাভজনক কর্মে সক্রিয় রয়েছেন। এতে পেশাগত মর্যাদা ও সততা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং তরুণ ও পূর্ণকালীন প্র্যাকটিসিং আইনজীবীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর আগে বার কাউন্সিলে এ সংক্রান্ত আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।
আইনি ভিত্তি ও রিটের মূল যুক্তি
রিট আবেদনে দেশে প্রচলিত আইন, বার কাউন্সিলের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক নজির তুলে ধরা হয়েছে:বাংলাদেশ বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২: The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-এর ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তালিকাভুক্ত থাকা অবস্থায় অন্য কোনো লাভজনক পেশা, ব্যবসা কিংবা নিয়মিত চাকুরিতে নিয়োজিত হতে পারেন না। যদি কেউ অন্য কোনো পেশা বা বাণিজ্যে জড়াতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার ওকালতি সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সমর্পণ (Surrender/Suspend) করতে হবে। অন্যথায় তা স্পষ্টতই ‘পেশাগত অসদাচরণ’ (Professional Misconduct) হিসেবে গণ্য।
ক্যাননস অব প্রফেশনাল কনডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট: পেশাগত আচরণবিধির (Canons of Professional Conduct) অধ্যায়-৪-এর রুল ৮ অনুযায়ী, দ্বৈত পেশা ধারণ করা ওকালতি পেশার নীতি ও শৃঙ্খলার সরাসরি পরিপন্থী।
রিটে যেসব প্রতিকার চাওয়া হয়েছে
পেশাগত শুদ্ধি অভিযানের তাগিদ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বার কাউন্সিলে সদস্যপদ থাকা আইনজীবীদের একটি বড় অংশ কার্যত আদালতে উপস্থিত থাকেন না; অথচ নির্বাচন বা অন্যান্য সুবিধাদি নেওয়ার সময় তাদের সক্রিয় দেখা যায়। অপরদিকে অনেকেই কর্পোরেট চাকরি, কন্ট্রাক্টরি বা শিক্ষকতার মতো ভিন্ন পেশায় যুক্ত থেকেও গাড়িতে ও ভিজিটিং কার্ডে আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করেন।
উচ্চ আদালতের এ রিটটি নিষ্পত্তির মাধ্যমে যদি বার কাউন্সিল একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা, আদালত অঙ্গনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সত্যিকারের তরুণ আইনজীবীদের অধিকার সুরক্ষায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।