সিভিল জজ নিয়োগে ৫ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার দাবি জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনে রাজশাহী বারের আবেদন
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ ১১ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে প্রবেশ পদে (সিভিল জজ) সরাসরি নিয়োগের বিদ্যমান যোগ্যতার শর্তে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি তুলেছে রাজশাহী আইনজীবী সমিতি। দেশের বিচার ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এই পদে আবেদনের ক্ষেত্রে আইন বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি ন্যূনতম ৫ বছরের ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনপত্র প্রেরণ করেছে রাজশাহী এডভোকেট বার এসোসিয়েশন।
গতকাল ১০ জুন, ২০২৬ তারিখে রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী যৌথ স্বাক্ষরে এই লিখিত আবেদনটি দাখিল করেন।
রাজশাহী এডভোকেট বার এসোসিয়েশনের প্রেরিত আবেদনপত্রে সিভিল জজ নিয়োগের ক্ষেত্রে ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনার পক্ষে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে:
বিগত আমলের আইনি নজির: আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীনভাবে পৃথক হওয়ার সময়েও জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদে নিয়োগের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের আইন পেশার (ওকালতি) বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল।
পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের উদাহরণ: আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের অধস্তন জুডিসিয়ারিতে (Subordinate Judiciary) প্রবেশের ক্ষেত্রেও আইন পেশার বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্ত সফলভাবে বলবৎ রয়েছে।
উচ্চ আদালতের সাথে সামঞ্জস্য: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংবিধানে ন্যূনতম ১০ বছরের ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নিম্ন আদালতের প্রবেশ পদেও অভিজ্ঞতার শর্ত থাকা যুক্তিযুক্ত।
বয়সসীমা পরিবর্তনের প্রস্তাব: ওকালতির ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা যুক্ত করার কারণে যদি পরীক্ষার্থীদের বয়স বেড়ে যায়, তবে সেই প্রয়োজন বিবেচনা করে অধস্তন জুডিসিয়ারিতে প্রবেশ ও অবসরের সার্বিক বয়সসীমা পরিবর্তন বা সমন্বয় করা যেতে পারে।
রাজশাহী এডভোকেট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মো. আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী এই প্রস্তাবটি দ্রুত
পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর ব্যবস্থা নিতে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।