১৫ সদস্যের অ্যাডহক বার কাউন্সিল কমিটি গঠন করলো সরকার
নিউজ ডেস্ক,আদালত বার্তাঃ১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কার্যক্রম সচল রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত
থাকা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন করে ১৫ সদস্যের একটি অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২” এর ক্ষমতাবলে এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কাউন্সিল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জসীম উদ্দীন সরকার, এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, রাগীব রউফ চৌধুরী, নাসির উদ্দিন অসীম, সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং মোহাম্মদ শিশির মনির।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বগুড়ার আলী আসগর, ঢাকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের মাহফুজুর রহমান মিলনকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
বার কাউন্সিলকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২২ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ১৪টির মধ্যে ১০টি পদে জয়লাভ করে এবং তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পদাধিকারবলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ এম আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৮ মে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে এক বছর মেয়াদের জন্য ১৪ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান। তবে এই কমিটির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির আইনজীবী সংগঠন ‘ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)’ ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর তা বাতিলের দাবি জানায়। তাদের মতে, মূল আইনে অ্যাডহক কমিটির বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান অনুপস্থিত।
নির্বাচন স্থগিত ও নতুন সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের ১৯ মে সাধারণ সদস্য নির্বাচন আয়োজনের সূচি নির্ধারণ করা হলেও, গত ১৫ এপ্রিল জরুরি সভায় দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং জেলা বার সমিতিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
এই স্থগিতাদেশের ধারাবাহিকতায় বার কাউন্সিলের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার পুনরায় একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন কমিটি বার কাউন্সিলের চলমান কার্যক্রম বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।