২৩ জুনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা: ধর্মীয় ইস্যু ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত—গোয়েন্দা সূত্র
রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
২০ জুন ২০২৬
আসন্ন ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরির একটি চক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ইস্যুকে হঠাৎ সামনে এনে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়, যা মূলত একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের মতে, দেশের শান্তিপ্রিয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। বরং একটি সংগঠিত চক্রের প্রভাবে তারা মাঠে সক্রিয় হয়েছে। এই গোষ্ঠীর নেপথ্যে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত কিছু সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মানববন্ধনের নামে রাজপথ দখলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ২৩ জুনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সমন্বিত হতে পারে। একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র ও যুব সংগঠনের ঝটিকা মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের আশঙ্কা, অন্যদিকে ধর্মীয় ইস্যু উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি—এভাবে দ্বিমুখী চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া একটি গোষ্ঠী এখন উগ্র ধর্মীয় ইস্যু এবং গোপন নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। এটি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। গত আগস্টের গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতায় বলীয়ান হয়ে তারা মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও প্রতিরোধ জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস.এন. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে এবং স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সমন্বিত নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য এই অস্থিতিশীলতার চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে।