1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
গণহারে বহিষ্কার, বিক্ষোভ আর বিতর্ক: ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন রেকর্ড বনাম ওবামা-বাইডেন - আদালত বার্তা
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গণহারে বহিষ্কার, বিক্ষোভ আর বিতর্ক: ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন রেকর্ড বনাম ওবামা-বাইডেন সৌদি, আরব আমিরাত ও তুরস্কে থাকা মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবে ইরান! লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট।  ঢাকার আবাসন সংকটের সমাধান হিসেবে নেওয়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ৩১ বছরেও পুরোপুরি বাসযোগ্য হয়নি। সব দল না থাকলে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না’ নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম ইলন মাস্কের স্টারলিংক সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে অচল করে দিলো ইরান ফের বাড়তে পারে শীতের দাপট পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ

গণহারে বহিষ্কার, বিক্ষোভ আর বিতর্ক: ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন রেকর্ড বনাম ওবামা-বাইডেন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

গণহারে বহিষ্কার, বিক্ষোভ আর বিতর্ক: ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন রেকর্ড বনাম ওবামা-বাইডেন

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণহারে অভিবাসী বহিষ্কার (ম্যাস ডিপোর্টেশন) নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক চলছে, তখন তার ডিপোর্টেশন রেকর্ডের সঙ্গে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার পরিসংখ্যানও সামনে আসছে।

“ডিপোর্টার ইন চিফ” নামে পরিচিত ওবামা তার দুই মেয়াদে লক্ষ লক্ষ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবুও ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প সীমান্ত নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু বানিয়ে প্রচারণা চালান।

ভ্যান্সের মন্তব্য ও নতুন বিতর্ক

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস (ICE)–বিরোধী প্রতিক্রিয়া ও সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওবামা আমলে ব্যবহৃত ডিপোর্টেশনের হিসাব পদ্ধতি ছিল ভিন্ন।

ভ্যান্স বুধবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন, “ওবামা প্রশাসন সীমান্তে কাউকে ফিরিয়ে দিলেও সেটিকে ডিপোর্টেশন হিসেবে গণনা করত। কেউ সীমান্তে এসে ফেরত গেলে সেটাও ডিপোর্টেশন ধরা হতো। কিন্তু এখন আমাদের দেশের ভেতর থেকে ডিপোর্টেশন করতে হচ্ছে, কারণ বাইডেন ও হ্যারিস সবাইকে ঢুকতে দিয়েছিলেন।”

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরেন লক্ষ লক্ষ মানুষকে ডিপোর্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। সীমান্তে দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধির কারণে এই অঙ্গীকার তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে—কারণ আইসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অর্থসংকটে ভুগছে।

তথ্য কী বলছে?

ওবামা প্রশাসন

•দুই মেয়াদে মোট ৫৩ লাখ (৫.৩ মিলিয়ন) অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট বা রিপ্যাট্রিয়েট (ফেরত) করা হয়।

•প্রথম দিকের বছরগুলোতে ডিপোর্টেশনের হার ছিল বেশি।

ট্রাম্প প্রশাসন (প্রথম মেয়াদ)
•মোট অপসারণ করা হয় ২০ লাখ ১ হাজার ২৮০ জন।

বাইডেন প্রশাসন

•জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত মোট অপসারণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬০ জন।

প্রথম বছরগুলোর সময়কার ডিপোর্টেশন

•ওবামা: ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৭ জন

•ট্রাম্প: ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪০ জন

•বাইডেন: প্রায় ১৩ লাখ (১.৩ মিলিয়ন) জন

‘সিকিউর কমিউনিটিজ’ কর্মসূচির ভূমিকা

ইমিগ্রেশন থিঙ্ক ট্যাংক নাম্বার্স ইউএসএ (NumbersUSA)–এর সহ-সভাপতি জেরেমি বেক নিউজউইককে বলেন “ওবামার প্রথম মেয়াদের শুরুতে অভ্যন্তরীণ ডিপোর্টেশনের সংখ্যা বেশি ছিল। এর পেছনে বড় কারণ ছিল ‘সিকিউর কমিউনিটিজ’ কর্মসূচি, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে চালু হয়েছিল।”

এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় জেলে আটক অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যেত, ফলে অপসারণ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব হতো।

বেক বলেন,“এটি নিরাপদ, কার্যকর এবং দক্ষ ছিল—অনেকের কাছে ‘অতিরিক্ত কার্যকর’ বলেই মনে হয়েছিল।”

২০১৪ সালে ওবামা প্রশাসন এই কর্মসূচি বাতিল করে চালু করে প্রায়োরিটি এনফোর্সমেন্ট প্রোগ্রাম (PEP), যা কেবল জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক মামলায় ডিপোর্টেশন সীমিত করে।

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পরিসংখ্যানের জটিলতা

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষভাগ এবং বাইডেনের সময়কালে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ সময় সীমান্তে ফেরত পাঠানো বহু মানুষকে ডিপোর্টেশন হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এখানেই পরিসংখ্যান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে আইস (ICE) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ডিপোর্টেশনের তথ্য প্রকাশ করলেও দাবি করে, এসব সংখ্যায় সীমান্তে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত নয় এবং বাইডেন প্রশাসন “তথ্য বিকৃত” করেছে। তবে ডিএইচএস (DHS) জানুয়ারি ১৬, ২০২৫ পর্যন্ত মাসিক বিশদ তথ্য প্রকাশ বন্ধ রাখে, ফলে হিসাবের ব্যবধান বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এমপিআইয়ের বিশ্লেষণ

নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ১২ মাসে গ্রেফতার ও আটক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বছরে ১০ লাখ ডিপোর্টেশনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে—এমন লক্ষণ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “গ্রেফতার ও ডিপোর্টেশনের ওপর একক মনোযোগ ‘শক অ্যান্ড অ’ তৈরি করলেও বাস্তব প্রয়োগ ছিল অসম ও অসংগত।”

ডিসেম্বরে আইস (ICE) জানায়, তারা ৬২২,০০০ অ-নাগরিককে অপসারণ করেছে, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের ২০২৪ অর্থবছরে সংখ্যা ছিল ৭৭৮,০০০।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, গত এক বছরে ২০ লাখের বেশি অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, তবে তারা ভিসার মেয়াদ শেষে গেছে, স্বেচ্ছায় চলে গেছে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে—সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য নেই।

তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অস্টিন কোচার বলেন,“হোমল্যান্ড সিকিউরিটি স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়—ট্রাম্প প্রশাসন আসলে কতজনকে ডিপোর্ট করেছে।”

তার মতে,২০২৫ অর্থবছরে আইস প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার জন ডিপোর্ট করেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার জন। পরে হঠাৎ করে ৬ লাখের দাবি করা হয়, কিন্তু কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ওবামা আমলেও কি আইস-বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল?

বর্তমানে আইসের কৌশল ঘিরে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের হাতে মার্কিন নাগরিক রেনে গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ওবামা আমলেও দ্রুত ও কঠোর ডিপোর্টেশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোলের কথিত নিষ্ঠুরতা নিয়ে এসিএলইউ (ACLU) অভিযোগ তুলেছিল। এছাড়া কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও আইস এজেন্টের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে পার্থক্য হলো, তখন এত বড় আকারে সশস্ত্র অভিযান ও রাস্তায় গ্রেফতার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

জেরেমি বেক বলেন,“সিকিউর কমিউনিটিজ কর্মসূচির সময় আইস স্থানীয় জেলের সঙ্গে সমন্বয়ে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত। কিন্তু ‘স্যাংচুয়ারি নীতি’ আইস এজেন্টদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”

তার মতে, রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সহযোগিতা, জেলে প্রবেশাধিকার এবং বাধ্যতামূলক ই-ভেরিফাই ব্যবস্থা চালু হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট