মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
Title :
হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি মেট্রোরেল লাইন-৬: সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ ও হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএলের বিস্তৃত পদক্ষেপ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু নিরাপদ খাদ্য কেনাকাটায় উপভোক্তার সচেতনতায় আইন, বাস্তবতা ও নাগরিক দায়িত্ব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরুরি প্রয়োজনে মিলবে সুদমুক্ত ৫ হাজার টাকা ঋণ ঢাকার সিএমএম কোর্টে নিত্যদিনের  সংকটে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা আইনজীবীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করলেন হাইকোর্ট আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন নিষিদ্ধ: পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা

অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত

​নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ১১ আগস্ট ২০২৬

​পণ্য লেনদেনকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘গানভর ইউএসএ এলএলসি’র কাছ থেকে অতিরিক্ত দরপ্রস্তাব ও কঠোর শর্তের কারণে আপাতত থমকে গেছে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের উদ্যোগ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিজিপি) প্রস্তাবটি অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিক্রি ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) স্বাক্ষর স্থগিত করা হয়েছে।

​চূড়ান্ত ধাপে এসে দরবৃদ্ধি

​এর আগে গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) পর্যায় ও দ্বৈত-বেঞ্চমার্ক মূল্যের আওতায় গানভরের সাথে ১৩ বছর মেয়াদী চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রথম পর্যায়ে এশিয়ান স্পট এলএনজি বেঞ্চমার্ক (জেকেএম) এবং পরবর্তীতে সাশ্রয়ী মার্কিন ‘হেনরি হাব’ সূચকের সাথে যুক্ত করে এই কাঠামোর খসড়া তৈরি হয়।

​কিন্তু গত ৭ আগস্ট সিসিজিপির চূড়ান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে আসে গানভরের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়টি। পেট্রোবাংলার সাথে চূড়ান্ত দর কষাকষিতে গানভর ২০২৯ পরবর্তী মেয়াদের জন্য হেনরি হাব সূচক ও প্রিমিয়াম সামান্য কমালেও, ২০২৬-২৮ মেয়াদের দাম ব্যাপক বাড়িয়ে দেয়।

  • ​প্রাথমিক প্রস্তাব: ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য ‘জেকেএম + ০.১০ ডলার’ প্রতি এমএমবিটিইউ।
  • ​সংশোধিত প্রস্তাব: ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য ‘জেকেএম + ০.৮৭৫ ডলার’ প্রতি এমএমবিটিইউ।

​২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ১০ কার্গো এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে তারা ‘১২১% হেনরি হাব + ৫.২০ ডলার’ প্রস্তাব করেছে, যা স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক বাজার হারের (সাধারণত ১১৫% হেনরি হাব + ৫-৬ ডলার) চেয়ে তুলনামূলক বেশি।

​বাজারের সুযোগ নিচ্ছে গানভর

​জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সূত্রমতে, আগামী কয়েক বছর বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহে ঘাটতির পূর্বাভাস রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নিয়ে গানভর এ দর বাড়িয়েছে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান অস্থিরতায় খুব কম প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে ঝুঁকি নিতে চাইছে, আর এই সংকুচিত সরবরাহের সুযোগটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে গানভর।

​অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির সাথে তুলনা

​আঞ্চলিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির তুলনায় গানভরের প্রস্তাবিত দর ছিল বেশ চড়া:

  • ​কাতার-এনার্জি (বাংলাদেশ): ১০.১১৪ ডলার/এমএমবিটিইউ।
  • ​ওকিউ ট্রেডিং (বাংলাদেশ): ৯.৪৪৪ ডলার/এমএমবিটিইউ।
  • ​গেইল-কাতার এনার্জি (ভারত): ১১৫% হেনরি হাব + ৫.৬০ ডলার।
  • ​জিএসপিসি-টোটাল এনার্জিস (ভারত): ১১৯% হেনরি হাব + ৪.৪০ ডলার।

​দেশের জ্বালানি খাতে চরম অনিশ্চয়তা

​মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর কাতার-এনার্জি, ওমানের ওকিউটি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জি ‘ফোর্স মাজ্যুর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) জারি করায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কাতার-এনার্জি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ৪০ কার্গোর জায়গায় তারা মাত্র ৫০ শতাংশ বা ২০ কার্গো দিতে পারবে। এছাড়া ২০২৮ সালে ওমানের সাথে প্রথম দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে।

​বিকল্প উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ

​উচ্চমূল্যের খোলা বাজার বা স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রথাগত উৎসের বাইরে গিয়ে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে এলএনজি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ। প্রাথমিক আলোচনায় অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও অ্যাঙ্গোলার নাম থাকলেও—তাৎক্ষণিক ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়াকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট