
আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার ও তড়িঘড়ি রায়: ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাংবাদিক ফ্রন্টের গভীর উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আসামিদের অনুপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই উদ্বেগের কথা জানান। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে প্রেরণ করেন সংগঠনের সদস্য আসাদুর রহমান।
রায় নিয়ে আইনি ও পদ্ধতিগত প্রশ্ন
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিচারকার্য চলমান রয়েছে। তবে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ না দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার বিষয়টি চরম উদ্বেগজনক।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন তারা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, বাংলাদেশ যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও পূর্ববর্তী রায়ের সমালোচনা
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্বে উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আসামিদের নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে।
বিচারপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা এর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আইনসম্মত পরিচালনার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে সংগঠনটি বর্তমান রায় বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম পুনরায় পরিচালনার জোর আহ্বান জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট।