মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
Title :
মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার ২০২৭ সালের সম্ভাব্য রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি প্রকাশ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চমকপ্রদ তথ্য কিছু হলেই আওয়ামী লীগকে পেটাতে হবে, এই জুলুম বন্ধ করেন ভাই: ফাহাম সরকারি প্রকল্পে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ঠিকাদারদের তথ্য চেয়েছে এনবিআর

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ফলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের যুক্তিতর্ক পর্ব শেষ হওয়ায় এখন যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার শুনানি শেষ হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি—হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশের প্রমাণ রয়েছে
এদিন শুনানির শুরুতে আইনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমন এবং মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
মামলায় দাখিল করা অডিও ও ভিডিওসহ বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্তে এসবের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই নির্দেশের পর ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় এবং এতে বহু মানুষ নিহত হন।
কাদের-নাছিম-আরাফাত দায়ী নন: আসামিপক্ষ
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার উদ্দেশ্যেই ‘শুট অ্যাট সাইট’ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। ফলে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র আওতায় তাদের দায়ী করার সুযোগ নেই।
তিন আসামির কেউ কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার কোনো নির্দেশও দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রলীগ-যুবলীগের চার নেতার পক্ষে খালাসের আবেদন
এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।
তার মক্কেলরা হলেন—ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান এবং যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
আইনজীবী দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেলের নাম নেই। অন্যরা সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অধীনস্থ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও সেটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
নারী আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
আন্দোলনের সময় নারীদের আহত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।
তার দাবি, এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী নেই এবং সাক্ষ্যপ্রমাণেও নারীদের আহত হওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তার চার মক্কেল কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আন্দোলন ঘিরে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা ভিডিওতেও তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, চার আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই তাদের খালাস দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই’: প্রসিকিউশন
আসামিপক্ষের যুক্তির জবাবে পাল্টা বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলন দমনের সময় একজন মানুষ নিহত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অপরাধের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযুক্তদের ভূমিকা ও পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতির সুযোগ নেই।
‘তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি’: রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
তিনি জানান, এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ছিলেন ফরমাল বা বিশেষজ্ঞ সাক্ষী এবং ১২ জন ছিলেন ভুক্তভোগীদের স্বজন।
তার দাবি, এসব সাক্ষীর কেউই ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম কিংবা মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে সরাসরি জড়িত করে সাক্ষ্য দেননি। ফলে এ তিনজনের বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।
কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রেও তাদের দায়ী করা যাবে না বলে দাবি করেন এম হাসান ইমাম।
তার বক্তব্য, সব ধরনের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই এসেছে। তবে তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়নি।
সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন
এর আগে গত ১২ আগস্ট সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শেষ করে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সেদিন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার সাত আসামি
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম;
সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত;
যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ;
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল;
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন;
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, রায়ের অপেক্ষা
গত ২ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি রায়ের অপেক্ষায়। ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট