
‘ক্ষমতার ভিত্তি হতে হবে আইন, পেশিশক্তি নয়’: জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের নির্দেশ পালনের কড়া তাগিদ মহাসচিবের
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স আদালত বার্তাঃ২২সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গাজায় নজিরবিহীন প্রাণহানি, ইউক্রেনে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত প্রসারের প্রেক্ষাপটে তিনি বৈশ্বিক শাসনকাঠামোয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কড়া বার্তা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে বৈশ্বিক সংঘাত ও ক্ষমতার পালাবদলের আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন তিনি।
গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গে গুতেরেস আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সাম্প্রতিক আইনি মতামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, গাজায় জাতিসংঘ ও এর মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
শুধু সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে মহাসচিব বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতা পরিচালিত হতে হবে আইনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।” একুশ শতকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনি কাঠামো ও সংযমের উপস্থিতিকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম ভিত্তি ‘জাতিসংঘ সনদ’ (UN Charter) লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করেন গুতেরেস। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে ‘বর্বর যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ও যুদ্ধ পরিচালনা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে সতর্ক করেন তিনি।
বৈশ্বিক শাসনকাঠামোতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানান গুতেরেস। নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসন না থাকাকে তিনি ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ অবিচার বলে আখ্যায়িত করেন।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতা এখন রাষ্ট্র ও ব্যক্তির হাত থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান আইনি কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও এর আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।