
জামিন পেলেও মুক্তি মেলেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার: আদালতে চট্টগ্রাম জেল সুপারের ব্যাখ্যা দাখিল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আদালত বার্তা: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেনকে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন। লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন, আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) কাগজপত্র ও হাজিরা-পরোয়ানা থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিকে মুক্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং দুই দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। নির্দেশ অনুযায়ী গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে লিখিত জবাব দেন কারা কর্মকর্তা। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনটিতে এখনো বিচারকের স্বাক্ষর হয়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা
আদালতে দাখিল করা জেল সুপারের জবাব অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ইলিয়াসের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। ওই দিন মোট ৯৮ জন বন্দির জামিন আদেশ যাচাই-বাছাই করে মুক্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। ইলিয়াসকে মুক্তি দেওয়ার আগে পুলিশ প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয় যে, তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ‘শো-অ্যারেস্ট’ দেখানোর কাগজপত্রও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
জবাবে বলা হয়, আদালতের দাপ্তরিক সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি, ফলে জামিন কার্যকর স্থগিত রাখা হয়। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তার বিরুদ্ধে অন্য মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায়। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত করেছে।
আইনজীবীর অভিযোগ ও আদালতের পদক্ষেপ
গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তী জামিন পান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন (২৫)। আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ আদালতে অভিযোগ করেন, অন্য কোনো মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা বা আটক রাখার আদেশ না থাকা সত্ত্বেও ১৬ সেপ্টেম্বর জামিননামা পৌঁছানোর পর ইলিয়াসকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সিএমএম আদালত জেল সুপারের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
চকবাজার থানার ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের ছেলে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ৩টি, পাঁচলাইশ থানায় ১টি এবং খুলশী থানায় ১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক ৩টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে গত ৬ জুন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ, গত ১৪ মে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মাঠে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২৭(৫)/২৬ ধারায় আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ তাদের লিখিত জবাবে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে।