শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
Title :
এনবিআরের দাবি বৈধ: ড. ইউনূসের ‘গ্রামীণ কল্যাণ’কে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট অর্থঋণ আদালত আইনের ১৮(২) ও ১৮(৩) ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্টের রুল গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ না লেখার নির্দেশ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না কমিশন : সিইসি এনআইডিতে ছবির বিকল্প নেই, হাইকোর্টে রুল খারিজ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট রংপুর আইনজীবী সমিতিতে ভোটাধিকার ও ‘কালাকানুন’ বাতিলের দাবিতে দিনভর উত্তেজনা: সন্ধ্যায় সমঝোতা

জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা: পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা: পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাকিবুল হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা ঘটনার সময় তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না, এমন ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি
অভিযোগপত্রে উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা ও সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লা প্রমুখ।
অব্যাহতি প্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা
অব্যাহতি প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন খান, কামরুল আরেফিন, গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদারসহ আরও অনেকে।
আন্দোলনের পটভূমি
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত সেই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করলে পুনরায় কোটা পদ্ধতি নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে বলা হয়, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পৌঁছালে সেখানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত আসামির ছোড়া গুলিতে রাকিবুল হোসেন গলায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত জটিলতা
তদন্তের স্বার্থে ভিকটিমের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হলেও পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা দায়ের ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক্ক ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, তার ছেলে রাকিবুল হোসেন মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের এমআইএসটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।”
উপসংহার
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আলোচিত এই মামলাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির দিকে নজর রয়েছে সকলের।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট