শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
Title :
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই সাংবাদিকতা কি ‘মামার বাড়ির মোয়া’? সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তা যাচাই, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান? সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক ও মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন জুলাই হত্যাকাণ্ডের জাতিসংঘের রিপোর্টের প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় বাংলাদেশকে দেয়নি জাতিসংঘ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলা
জাতিসংঘ প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় দেয়নি বাংলাদেশকে
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
ঢাকা | ৬ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের প্রকাশিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় বাংলাদেশকে সরবরাহ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম এ তথ্য তুলে ধরেন। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর তামিম আদালতকে জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ফলে প্রসিকিউশন নিজস্ব অনুসন্ধান ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে উপস্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি, গুম, নির্যাতন ও নির্বিচার গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত ও নিখোঁজ হন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রায়শই প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় গোপন রাখে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়, তারা ইতোমধ্যে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসা নথি ও অন্যান্য আলামত আদালতে উপস্থাপন করেছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর।
মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট