শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
Title :
চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্নের ঘোষণা: বাজেট, প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তথ্য কমিশন গঠনে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান। বদলি ইস্যুতে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও মিলল না সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নাকি আনুষ্ঠানিকতা? ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন জুলাই হত্যাকাণ্ডের জাতিসংঘের রিপোর্টের প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় বাংলাদেশকে দেয়নি জাতিসংঘ আমদানিনির্ভরতা কমাতে কক্সবাজারে আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এতে  সিন্ডিকেট ভাঙবে, চাষিরা পাবেন ন্যায্যমূল্য আদালতে আইনজীবীর পোশাক: ঐতিহ্য, প্রতীক ও পেশাগত মর্যাদার প্রতিফলন বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট রোকসানা: স্বপ্ন, সংগ্রাম ও এক মর্মান্তিক ইতিহাস প্রফেসর কাবেরী গায়েনকে ঘিরে বিতর্ক,অভিযোগ, প্রতিক্রিয়া ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়সওয়াল

ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন জুলাই হত্যাকাণ্ডের জাতিসংঘের রিপোর্টের প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় বাংলাদেশকে দেয়নি জাতিসংঘ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলা
জাতিসংঘ প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় দেয়নি বাংলাদেশকে
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
ঢাকা | ৬ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের প্রকাশিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় বাংলাদেশকে সরবরাহ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম এ তথ্য তুলে ধরেন। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর তামিম আদালতকে জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ফলে প্রসিকিউশন নিজস্ব অনুসন্ধান ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে উপস্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি, গুম, নির্যাতন ও নির্বিচার গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত ও নিখোঁজ হন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রায়শই প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় গোপন রাখে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়, তারা ইতোমধ্যে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসা নথি ও অন্যান্য আলামত আদালতে উপস্থাপন করেছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর।
মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট