মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

ঢাকার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: নাজিমুদ্দিন রোডের খননে মিলল ৬০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ, ইঙ্গিত আড়াই হাজার বছরের পুরোনো জনপদের

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: নাজিমুদ্দিন রোডের খননে মিলল ৬০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ, ইঙ্গিত আড়াই হাজার বছরের পুরোনো জনপদের
প্রতিবেদন: আদালত বার্তা ডেস্ক,১৭ মে ২০২৬
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে উদ্ভাসিত হয়েছে ঢাকার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। খননে পাওয়া বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শন, প্রাচীন দেয়াল, ইটের গঠন ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ১৫শ শতকের শুরুতেই—বিশেষ করে ১৪৩০ সালের দিকে—এখানে একটি সুপরিকল্পিত প্রাসাদ-দুর্গ বা দুর্গনগরী গড়ে উঠেছিল।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্গ কেবল একটি সামরিক স্থাপনা ছিল না; বরং এটি একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এর পরিকল্পনা, দেয়ালের পুরুত্ব, স্থাপত্যরীতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সমৃদ্ধ ও সংগঠিত রাজধানী শহরের অংশ ছিল।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—খননকাজে এমন কিছু মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির টুকরা, প্রাচীন ইট ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলে মানববসতির ইতিহাসকে আরও পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতকের মধ্যেই এই অঞ্চলে মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল।
এই আবিষ্কার ঢাকার ঐতিহাসিক অবস্থান সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এতদিন মোগল আমল—বিশেষ করে ১৭শ শতকে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়কালকে নগরীর বিকাশের সূচনা ধরা হলেও, নতুন এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, ঢাকার ইতিহাস অনেক গভীর এবং প্রাচীন।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কৌশলগত অবস্থান, নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে এই অঞ্চল বহু আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই খননকাজ আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে ঢাকার প্রাচীন নগরায়ন, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নাজিমুদ্দিন রোডের এই প্রত্নস্থল তাই কেবল একটি খনন এলাকা নয়—এটি ঢাকার হাজার বছরের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এক অনন্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট