রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
Title :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, কারা সেই দুই নেতা 🌍 বিদেশে পাসপোর্ট হারালে কী করবেন? পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইনি ও ব্যবহারিক নির্দেশনা সঠিক Prompt-এই লুকিয়ে শক্তি: ChatGPT ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ সহজ করার ২০ কার্যকর কৌশল নীতি ও নৈতিকতা চর্চার আলোয় চরিত্রের বিকাশ মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাবই বড় সংকট: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে সমর্থন নেই ভারতের: রণধীর জয়সওয়াল “নীতিমালা” কি আইন? হাইকোর্ট কি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিতে পারে—সংবিধান ও বিচারিক ব্যাখ্যায় স্পষ্টতা বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে! হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল—প্রশ্ন বিএনপির

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই (ঢাকা) আদালত বার্তা : ২১ জুন ২০২৬
ঢাকার ধামরাই উপজেলার পাইকপাড়া-চৌহাট এলাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বৃহৎ ক্যানসার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ কমপ্লেক্স আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মহৎ উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে অবহেলা, অনাদর ও অরক্ষিত পরিবেশের কারণে এলাকাবাসীর কাছে এক ভুতুড়ে স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
স্বপ্নের সূচনা ও মহৎ উদ্দেশ্য
প্রকল্পটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবাল। তার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর দেশের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্পন্ন ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রকল্পের আওতায় একটি বহুতল ক্যানসার হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, বিশাল মসজিদ এবং একটি এতিমখানা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এলাকাবাসীর আশা ছিল, এটি বাস্তবায়িত হলে ধামরাইসহ আশপাশের অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নির্মাণ থেমে যাওয়ার পেছনের কারণ
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। হাসপাতাল ভবন, অবকাঠামো এবং মসজিদের দৃশ্যমান অগ্রগতি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল।
কিন্তু ২০১৭ সালে উদ্যোক্তা খান মোহাম্মদ ইকবালের আকস্মিক মৃত্যু পুরো প্রকল্পটিকে থমকে দেয়। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব এবং উদ্যোক্তার উত্তরসূরিদের উদ্যোগ না থাকায় কাজ আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিশাল এই প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
বর্তমান অবস্থা: অবহেলা, ঝুঁকি ও আতঙ্ক
দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকা এখন ঝোপঝাড় ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বহুতল ভবনের ভেতর-বাহিরে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন স্পষ্ট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনটি এখন বিষাক্ত সাপের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তির মাদকসেবনের স্থান হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রাতে এলাকাটি প্রায় জনমানবশূন্য থাকায় এটি নিয়ে ছমছমে ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এত বড় একটি জনকল্যাণমূলক স্থাপনাকে এভাবে পরিত্যক্ত রাখা উচিত নয়। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা কোনো বেসরকারি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে উদ্যোক্তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি এলাকাবাসী উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প পুনর্জীবন লাভ করবে।

একসময় যে প্রকল্পটি মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারত, সেটিই আজ অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই পরিত্যক্ত স্থাপনাই আবারও হতে পারে মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট