

সাত দিনে ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তথাকথিত ‘মোবাইল সাংবাদিক’ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিনা অনুমতিতে প্রবেশ, ভিডিও ধারণ এবং সাইবার হেনস্তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তার ঘটনার জেরে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরকারের ৭টি দপ্তরের সচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
সচেতন নাগরিক ও আইনজীবী আরিফ শেখের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মুহাম্মদ আনিছুজ্জামান নোটিশটি পাঠান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, এনটিএমসির মহাপরিচালক এবং তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য অফিসারকে নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে উল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংকের কোটালীপাড়া শাখায় একদল অনুমোদনহীন ব্যক্তি নিজেদের ‘মোবাইল সাংবাদিক’ ও ‘অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তা ফৌজিয়া হক এক গ্রাহকের ৫ লাখ টাকার ডিপোজিট স্লিপে সই করার আগে টাকাগুলো যাচাই করে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। গণনার সময় মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকার হিসাবগত তারতম্যকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিরা সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে তারা ওই নারী কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করতে থাকে এবং কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই তারা ওই কর্মকর্তার ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট ও বিকৃত করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ওই নারী কর্মকর্তার প্রতি ‘তীব্র মানসিক নির্যাতন’, ‘সাইবার বুলিং’ এবং ‘সরকারি কাজে প্রত্যক্ষ বাধা’ হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ: ব্যাংক কর্মকর্তা ফৌজিয়া হককে সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে হেনস্তাকারী তথাকথিত ‘মোবাইল সাংবাদিকদের’ বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।
২. ভিডিও অপসারণ: বিটিআরসি ও এনটিএমসিকে অবিলম্বে বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই হেনস্তামূলক, অননুমোদিত ও অবমাননাকর সব ভিডিও ক্লিপ এবং লিংক ব্লক বা অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন: ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং যেকোনো স্পর্শকাতর সরকারি দপ্তরে অননুমোদিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধ, বিনা অনুমতিতে ভিডিও বা অডিও ধারণ এবং তথাকথিত ‘মোবাইল সাংবাদিকতা’ বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে যত্রতত্র ফেসবুক লাইভ ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধ করতে একটি সুস্পষ্ট ও সর্বজনীন ‘জাতীয় নির্দেশিকা ও নীতিমালা’ প্রণয়ন করতে হবে।
নোটিশ প্রেরক আইনজীবী মুহাম্মদ আনিছুজ্জামান উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার অপব্যবহার করে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ‘অপ-সাংবাদিকতা’ সমগ্র ব্যাংকিং খাত ও সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।