
রবীন্দ্র সরোবরে নাচ-গানে শুরু ‘বর্ষা মঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’: নতুন প্রজন্মে সংস্কৃতির বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালতবার্তা
ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে নাচ, গান ও কবিতার আবেশে শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ‘বর্ষা মঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের সমাগমে সরোবর প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে।
বর্ষা মঙ্গল পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখের মতো এটিকেও একটি সর্বজনীন, জনপ্রিয় ও জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে সাজানো এ আয়োজন একদিকে সাংস্কৃতিক উপভোগের ক্ষেত্র, অন্যদিকে দেশীয় সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উৎসবের উদ্বোধন হয় নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানমালায় ছিল বর্ষার গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে অংশ নেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পী, কবি, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ। রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা পায়। বর্ষার মেঘলা আকাশ ও সরোবরের জলরাশির পটভূমিতে পরিবেশিত গান ও নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা এবং দেশীয় সংস্কৃতির ওপর বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা মনে করেন, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্ষা ঋতু বাঙালির জীবন, কৃষি, সাহিত্য ও শিল্পের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষাবিষয়ক গান ও কবিতা বাঙালির আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উৎসব সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।
বর্ষা মঙ্গল উৎসব বা বর্ষা উৎসব ঐতিহ্যগতভাবে আষাঢ় মাসের শুরুতে পালিত হলেও এবারের আয়োজন শ্রাবণ মাসে (১০ শ্রাবণ ১৪৩৩) অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা
বলেন, বর্ষার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সারা ঋতুজুড়ে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে ও দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিস্তৃত হবে এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে স্থায়ী স্থান করে নেবে।
উৎসব শেষে আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। রবীন্দ্র সরোবরের এ আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক জীবন্ত প্রয়াস হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।