সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
Title :
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার ২০২৭ সালের সম্ভাব্য রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি প্রকাশ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চমকপ্রদ তথ্য কিছু হলেই আওয়ামী লীগকে পেটাতে হবে, এই জুলুম বন্ধ করেন ভাই: ফাহাম সরকারি প্রকল্পে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ঠিকাদারদের তথ্য চেয়েছে এনবিআর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও মানুষের প্রতি অঙ্গীকার। ধানমন্ডি ৩২-এ ‘রাজনৈতিক সন্দেহে’ সাধারণ মানুষকে মারধরের অভিযোগ, আয়াসকে গ্রেপ্তারের দাবি

র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি
চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা।
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র‍্যাবকে বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনই আইনটি কার্যকর হওয়ার শেষ ধাপ নয়। ভেটিং ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পর নতুন আইন কার্যকর হওয়ার কথা।
র‍্যাবের পরিবর্তে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট
প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান র‍্যাবকে বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।
এর আগে প্রকাশিত খসড়া আইনের তথ্য অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত সহায়ক বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বাহিনীটির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক (ডিজি)। প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিনীকে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশনে সংগঠিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সদর দপ্তর ঢাকায় রাখার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।
বিশেষ অভিযান চালানোর ক্ষমতা থাকবে
নতুন বাহিনীর দায়িত্ব শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খসড়া আইনে এসআরবিকে বিভিন্ন গুরুতর ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
মাদকবিরোধী অভিযান;
অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান;
বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ;
সন্ত্রাসী আস্তানা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান;
মানবপাচার;
সংঘবদ্ধ অপরাধ;
সাইবার অপরাধ;
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ।
ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও এসআরবি সদস্যদের দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
তদন্তের দায়িত্বও পেতে পারে এসআরবি
খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে পারবে।
তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এসআরবির অধীনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধানও খসড়ায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা আলামত বা মালামাল আদালতের আদেশ অথবা প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন—অভিযোগ প্রতিকার কমিটি
র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন আইনে জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন—
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি;
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি;
এসআরবির পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া);
মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।
নাগরিকদের অভিযোগের পাশাপাশি এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ, হয়রানি, অনিয়ম, পদায়ন, পদোন্নতি, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা এবং বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও এই কমিটির আওতায় আসতে পারে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার সুযোগ থাকবে।
র‍্যাবের জনবল ও সম্পদ যাবে এসআরবিতে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাব-সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
এর ফলে নতুন বাহিনী প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন একটি জনবল কাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান র‍্যাবের জনবল ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই এসআরবির কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
আগে প্রকাশিত খসড়া আইনের তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাবের চলমান দায়িত্ব, সম্পদ, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও নতুন বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো বিধি বহাল
নতুন বাহিনী প্রতিষ্ঠার পরপরই যাতে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমে শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, রূপান্তরকালীন সময়ে বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা
প্রস্তাবিত আইনে এসআরবি সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলামূলক বিধানের কথাও বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, আইনসঙ্গত আদেশ অমান্য, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার মতো বিষয়কে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রেষণে থাকা কোনো সদস্যকে তার মূল বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থাও খসড়ায় রয়েছে।
প্রেষণে সদস্য নেওয়ার সুযোগ
এসআরবিতে শুধু পুলিশ সদস্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী থেকেও সদস্য প্রেষণে নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী প্রেষণের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর হতে পারে।
কেন র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি?
র‍্যাব ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক, অস্ত্র, সংঘবদ্ধ অপরাধসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে বাহিনীটি অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েছে।
নতুন আইনের উদ্যোগকে তাই শুধু নাম পরিবর্তন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে একদিকে র‍্যাবের বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযোগ প্রতিকার, শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার নতুন কাঠামো যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাম বদল, নাকি কাঠামোগত সংস্কার?
প্রশ্ন উঠছে—র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে এসআরবি প্রতিষ্ঠিত হলে এটি কি কেবল নাম ও আইনি কাঠামোর পরিবর্তন হবে, নাকি বাহিনীর কার্যক্রম ও জবাবদিহিতায় মৌলিক পরিবর্তন আসবে?
প্রকাশিত খসড়ার বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসআরবির মূল অপারেশনাল সক্ষমতার বড় অংশ র‍্যাবের সঙ্গে ধারাবাহিক থাকবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি ও নির্দিষ্ট শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার মতো নতুন জবাবদিহিমূলক কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে।
ফলে নতুন আইনের বাস্তব সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে—অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা নিশ্চিত করা যায়, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগের সময় নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকে এবং বাহিনীর ওপর কার্যকর বেসামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি কতটা প্রতিষ্ঠিত হয় তার ওপর।
এখন সামনে কী?
মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এরপর আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হবে।
অর্থাৎ, ১৭ আগস্টের মন্ত্রিসভার অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও এসআরবি এখনই কার্যকর নতুন আইনগত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এমনটি বলা যাবে না। আইনটি কার্যকর হওয়ার পরই র‍্যাব বিলুপ্তি এবং এসআরবিতে জনবল, সম্পদ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের পূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আদালত বার্তার বিশ্লেষণ:
র‍্যাব থেকে এসআরবিতে রূপান্তরের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে নাম বা ইউনিফর্ম পরিবর্তন নয়; বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেই ক্ষমতার ব্যবহার যেন আইন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের সীমার মধ্যে থাকে—নতুন আইনের বাস্তব প্রয়োগে সেটিই হবে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট