বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন
Title :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মুন্সীগঞ্জে দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’ চালু কিশোরগঞ্জে জামান খুনের মামলায় খালাস পাওয়া ৮ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ। সাতাত্তর বছরে আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞা, সংকট ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ওসমান গনি মনসুর সংবর্ধিত হুট করে মামলা নয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রেস কাউন্সিলে হতে হবে :এম এ মালেক  ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিভিল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম

শরিকদের ৮ আসন ছাড়ল আওয়ামী লীগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪৯৯ বার পড়া হয়েছে

শরিকদের ৮ আসন ছাড়ল আওয়ামী লীগ
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
১৪ দলের শরিকদের জন্য ৮টি আসন ছাড়তে সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোট সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বাসায় ১৪ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, জোট শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে তিনটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) তিনটি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে একটি ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি) একটি আসন ছেড়েছে আওয়ামী লীগ।

ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে বরিশাল-৩, রাজশাহী-২ ও সাতক্ষীরা-১। জাসদ কুষ্টিয়া-২, লক্ষ্মীপুর-৪, ও বগুড়া–৪, জেপি পিরোজপুর-২ আর বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি পেয়েছে চট্টগ্রাম–২ আসন।
এরমধ্যে বরিশাল–৩ আসনে প্রার্থিতা করতে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন কুষ্টিয়া ২ আসনে আর জেপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রার্থিতা করছেন পিরোজপুর–২ আসন থেকে।

এছাড়া চট্টগ্রাম–২ আসন থেকে প্রার্থিতা করবেন সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন, রাজশাহী-২ এ ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, সাতক্ষীরা-১ এ একই দলের মোস্তফা লুৎফুল্লাহ আহসান, লক্ষীপুর-৪ এ জাসদের মোশারফ হোসেন এবং বগুড়া-৪ এ একই দলের রেজাউল করিম তানসেন প্রার্থিতা করবেন।

আসন বণ্টনে বিলম্ব: ১৪ দলে অস্বস্তি বাড়ছেআসন বণ্টনে বিলম্ব: ১৪ দলে অস্বস্তি বাড়ছে
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই আসন বন্টন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করে আসছিল ১৪ দলের শরিকরা। এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে অন্তত তিনটি বৈঠক করেছে ১৪ দলের নেতারা। প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর জোট নেতারা বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সে সময় জোট নেতারা তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আসনের একটি তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে দিয়েছিলেন।

পরদিন জোট সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। সবশেষ গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও বৈঠক করেন তাঁরা। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোট শরীকরা ছাড় দেওয়া আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। আর বাকি আসনগুলোতে ভোট করবেন নিজেদের প্রতীক নিয়ে।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৯টি দলের প্রার্থীরা এবার নির্বাচনে আসছেন। অন্যদিকে, বিএনপিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থী এই নির্বাচনে নেই।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা চেয়েছেন ৩০৩ জন। পাঁচটি আসনে নৌকার বিপরীতে দুজন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও নিজেদের মতো করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে তরিকত ফেডারেশনের ‘ফুলের মালা’ প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৪৭ জন, সাম্যবাদী দলের ‘চাকা’ প্রতীকে ৬ জন, গণতন্ত্রী পার্টির ‘কবুতর’ প্রতীকে ১২ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ‘বাইসাইকেল’ প্রতীকে ২০ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ‘হাতুড়ি’ প্রতীকে ৩৩ জন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ‘মশাল’ প্রতীকে ৯১ জন।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলে আসছেন, এবারের নির্বাচনে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাতে বাধা দেওয়া হবে না।

বর্তমানে ভোটের মাঠে থাকা রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো বলা যেতে পারে ১৪ দলীয় জোটকে। বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে ২০০৪ সালে গঠিত হয় রাজনৈতিক জোট কেন্দ্রীয় ১৪ দল। জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ।

২০০৯ সালে এক–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোট মহাজোট ক্ষমতায় আসে। এ সময় ১৪ দলের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। টানা দুই মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত
তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শরিক দলের কোনো নেতাই মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এ নিয়ে জোটনেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতবিরোধ তৈরি হয়। জোটের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনাও করেন। অবশ্য বরফ গলতেও সময় লাগেনি। গত জুলাইয়ে জোটনেতারা আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন। আগের মতো এবারও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামবেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রার্থীরা।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর, আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews