সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
Title :
শিক্ষানবিশ আইনজীবী গ্রহণে সর্বোচ্চ ৮ জন ৬ মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্নে বার কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা ড. এস জয়শঙ্কর ও কিয়োকো: টোকিওর বসন্তে বোনা এক অনন্য ভালোবাসার গল্প ব্যাংক কর্মকর্তাকে হেনস্তা: ‘মোবাইল সাংবাদিকতা’ নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ ১০ বছরের মধ্যে এআই ‘সবাইকে মেরে ফেলবে’, প্রযুক্তিবিদের সতর্কবার্তায় তোলপাড় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট-হরতাল ডাকা অবৈধ: হাইকোর্ট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট হাইকোর্টে খারিজ দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বাণিজ্য অবরোধ বন্ধের কড়া বার্তা শি জিনপিংয়ের জোরপূর্বক পদত্যাগ বৈধ নয়: হাইকোর্ট মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে হারালে দল মেনে নেবে না: আইনমন্ত্রী আইন পেশায় আসার আগে ভাবুন: শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ

শিক্ষানবিশ আইনজীবী গ্রহণে সর্বোচ্চ ৮ জন ৬ মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্নে বার কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষানবিশ আইনজীবী গ্রহণে সর্বোচ্চ ৮ জন
৬ মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্নে বার কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের আইন পেশায় প্রবেশের প্রাথমিক ধাপ Pupilage বা শিক্ষানবিশকালকে কার্যকর ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। একজন নবীন আইনজীবীকে যথাযথ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর অধীনে একই সময়ে শিক্ষানবিশ গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশাসন শাখা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আইনজীবী সমিতিগুলোর সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির বিষয়—“একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর অধীনে শিক্ষানবিশ গ্রহণের সংখ্যা এবং নির্ধারিত ৬ (ছয়) মাসের Pupilage যথাযথভাবে সম্পন্নকরণ প্রসঙ্গে।” 
Rule 60(3)(i)-এর আলোকে সিদ্ধান্ত
বার কাউন্সিলের চিঠিতে Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order and Rules, 1972-এর বিধি 60(3)(i) উল্লেখ করে বলা হয়েছে, একজন বিজ্ঞ আইনজীবী একই সময়ে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারবেন না।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষানবিশকে নির্ধারিত সময়কাল অর্থাৎ ৬ মাসের Pupilage যথাযথভাবে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একজন বিজ্ঞ আইনজীবী একই সময়ে সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারবেন মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। 
কেন ৮ জনের সীমা নির্ধারণ?
বার কাউন্সিলের চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিক্ষানবিশকালকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে বাস্তব পেশাগত প্রশিক্ষণের সময় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালীন একজন নবীন আইনজীবীকে একজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনা, পেশাগত আচরণ, নৈতিকতা এবং আইনজীবী হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনশিক্ষা, ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে হয়।
অর্থাৎ পিউপিলেজের উদ্দেশ্য শুধু ছয় মাস কোনো সিনিয়রের চেম্বারে নামমাত্র যুক্ত থাকা নয়; বরং একজন নবীন আইনজীবীকে বাস্তব আদালত ও পেশাগত পরিবেশের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
‘পিউপিলেজ’ কি শুধু নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা?
বার কাউন্সিলের চিঠিতে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশরা সংশ্লিষ্ট সিনিয়রের চেম্বারে ও তত্ত্বাবধানে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করেই নির্ধারিত শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করছেন বলে Legal Education Committee-এর কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। 
এ ধরনের প্রক্রিয়ায় পিউপিলেজের মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নবীন আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় আইনশিক্ষা, ব্যবহারিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক মানদণ্ড অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
শুধু আটজন হলেই কি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত হবে?
এখানেই রয়েছে নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একজন সিনিয়রের অধীনে শিক্ষানবিশের সংখ্যা ৮ জনে সীমিত করা নিঃসন্দেহে তদারকির সুযোগ বাড়াতে পারে। কিন্তু সংখ্যাগত সীমা একাই যথাযথ প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা দেয় না।
প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষানবিশদের নিয়মিত—
সিনিয়রের চেম্বারে উপস্থিতি;
মামলা পড়া ও বিশ্লেষণ;
plaint, written statement ও অন্যান্য pleadings প্রস্তুত;
দরখাস্ত ও পিটিশন drafting;
আইনি গবেষণা;
মামলার নথি পর্যালোচনা;
আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ;
সাক্ষ্য ও জেরা সম্পর্কে ধারণা;
আদালতের শিষ্টাচার;
মক্কেলের সঙ্গে পেশাগত আচরণ;
পেশাগত নৈতিকতা
ইত্যাদি বিষয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৬ মাসের পিউপিলেজ—শুধু সময় পূরণ নয়
বার কাউন্সিলের নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্ধারিত ছয় মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
অর্থাৎ ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে—এটিই যথেষ্ট নয়; বরং ওই সময়ে শিক্ষানবিশ বাস্তবে কী শিখেছেন এবং কতটা পেশাগত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতে পিউপিলেজ ব্যবস্থায় উপস্থিতি, প্রশিক্ষণ ও তদারকির কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সিনিয়র আইনজীবীদের দায়িত্ব বাড়ল
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষানবিশ গ্রহণকারী সিনিয়র আইনজীবীদের দায়িত্বও কার্যত বেড়ে গেল।
একজন সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে সর্বোচ্চ আটজন শিক্ষানবিশ থাকলে প্রত্যেক শিক্ষানবিশকে পেশাগতভাবে প্রস্তুত করার জন্য যথাযথ সময় ও তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে।
বিশেষ করে শুধু নামমাত্র পিউপিলেজ দিয়ে ছয় মাস পূর্ণ করার প্রবণতা বন্ধ করতে সিনিয়র আইনজীবী, আইনজীবী সমিতি এবং বার কাউন্সিল—তিন পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে।
নবীন আইনজীবীদের জন্য কী বার্তা?
নতুন আইন স্নাতকদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিউপিলেজকে শুধু বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে না দেখে আইন পেশার হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একজন শিক্ষানবিশ এই সময় যত বেশি বাস্তব কাজ শিখবেন, ভবিষ্যতে তাঁর advocacy, drafting, legal research এবং client management-এর দক্ষতা তত বেশি উন্নত হওয়ার সুযোগ থাকবে।
আইন পেশার মানোন্নয়নে নতুন অধ্যায়?
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক আইন স্নাতক আইন পেশায় প্রবেশ করছেন। তাঁদের অনেকেই তাত্ত্বিক শিক্ষায় দক্ষ হলেও আদালতের বাস্তব কার্যক্রম, মামলা পরিচালনা ও পেশাগত নৈতিকতার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অনুভব করেন।
এই বাস্তবতায় শিক্ষানবিশ গ্রহণের সংখ্যা নির্ধারণ এবং ছয় মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ওপর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের জোর দেওয়াকে আইন পেশার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে এর সফলতা নির্ভর করবে নির্দেশনাটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তার ওপর।
আদালত বার্তার অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর চিঠিটি মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—পিউপিলেজ কি শুধু সময় পূরণের আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এটি সত্যিকার অর্থে একজন আইনজীবী তৈরির প্রশিক্ষণকাল?
বার কাউন্সিলের বক্তব্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য দ্বিতীয়টিই। একজন নবীন আইনজীবীকে দক্ষ, পেশাদার ও নৈতিক আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিনিয়রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান, নিয়মিত উপস্থিতি এবং বাস্তব প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। 
সুতরাং সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষানবিশ গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রকৃত সাফল্য সংখ্যায় নয়—পিউপিলেজের ছয় মাস কতটা অর্থবহ ও বাস্তবভিত্তিক করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে।
আর এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের Legal Education Committee-এর তদারকি, আইনজীবী সমিতিগুলোর ভূমিকা এবং সিনিয়র আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ববোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট