বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
Title :
আখেরি চাহার সোম্বা: ইসলামী শরিয়তে এর অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা (ADR) কার্যক্রম শুরু: বিচারপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: অ্যাম্বুলেন্সে আদালতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি মেট্রোরেল লাইন-৬: সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ ও হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএলের বিস্তৃত পদক্ষেপ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু

সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা
দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস
আদালত বার্তা, প্রতিবেদন, ঢাকাঃ১২ আগস্ট ২০২৬। 
অর্থের অভাবে যেন কোনো নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন—এই মৌলিক ধারণাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানীর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা-এর সামনে স্থাপিত সাইনবোর্ডে সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার বিভিন্ন সেবার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে আইনগত তথ্য ও পরামর্শ, বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), মামলা দায়ের ও পরিচালনা, বিচারপ্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ এবং মামলার আনুষঙ্গিক ব্যয়ের মতো সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা’ মানে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি খরচে মামলা পরিচালনার সুবিধা পাবেন—এমন নয়। সংশ্লিষ্ট আইন, যোগ্যতার মানদণ্ড, আবেদন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে এ সহায়তা দেওয়া হয়। আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা করেছে।
সংবিধানে আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। অনুচ্ছেদ ৩১ প্রত্যেক নাগরিক ও বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আবার গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৩৩(১) আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তাঁর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার স্বীকার করেছে।
অর্থাৎ, বিচার পাওয়ার অধিকার শুধু আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য নয়। বাস্তবে অর্থনৈতিক অক্ষমতা যেন ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় আইনগত সহায়তা ব্যবস্থার গুরুত্ব।
আইনগত সহায়তা বলতে কী বোঝায়?
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর মূল কাঠামোয় ‘আইনগত সহায়তা’র মধ্যে আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা, মধ্যস্থতা বা সালিশের ক্ষেত্রে সহায়তা, মামলার প্রাসঙ্গিক/আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং নির্ধারিত হারে আইনজীবীর সম্মানি প্রদানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। এতে আইনি তথ্য ও পরামর্শসেবা, মামলাপূর্ব বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং আদালত বা ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রেরিত মামলার মধ্যস্থতার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোন কোন সেবা পাওয়া যেতে পারে?
ছবিতে প্রদর্শিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আলোকে যোগ্য বিচারপ্রার্থীরা সাধারণত—
১. আইনগত তথ্য ও পরামর্শ:
নিজের অধিকার, মামলা করার পদ্ধতি, আইনি প্রতিকার, আদালতের এখতিয়ার ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পরামর্শ পেতে পারেন।
২. বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR):
মামলায় না গিয়ে বা চলমান বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩. আইনজীবী নিয়োগ:
যোগ্য আবেদনকারীকে প্যানেলভুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ২০২৬ সালের সংশোধনীতে প্যানেল আইনজীবীদের তালিকা, তাদের কর্মদক্ষতা এবং বিচারপ্রার্থীর অভিযোগের বিষয়েও জেলা পর্যায়ে নজরদারির বিধান জোরদার করা হয়েছে।
৪. মামলা দায়ের ও পরিচালনায় সহায়তা:
যোগ্য বিচারপ্রার্থীর পক্ষে মামলা দায়ের, পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
৫. মামলার আনুষঙ্গিক ব্যয়:
আইনের নির্ধারিত কাঠামো ও অনুমোদনের আওতায় মামলার প্রাসঙ্গিক খরচসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কারা আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন?
আইনগত সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো এমন বিচারপ্রার্থী, যিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন অথবা আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ। তাই আবেদনকারীর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা এবং মামলার প্রকৃতি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—শুধু দরিদ্র হলেই প্রত্যেক আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন যাচাই করে সহায়তার ধরন ও শর্ত নির্ধারণ করতে পারে।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনগত ভিত্তি
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ৯-এ জেলা পর্যায়ে জেলা কমিটির কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ এ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক দপ্তর এবং আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বের বিধান রয়েছে।
ধারা ১০ জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে। এর মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীর আবেদন বিবেচনা করে আইনগত সহায়তা প্রদান, সহায়তার ধরন ও শর্ত নির্ধারণ, জেলা পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি অন্যতম।
২০২৬ সালে বড় পরিবর্তন: নতুন আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর
আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ জারি করা হয়। সরকারি গেজেটেও এটি অধ্যাদেশ নং ০৭, ২০২৬ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
এই সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত সহায়তার সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, পেশাদার মধ্যস্থতাকারী তৈরি ও প্রশিক্ষণ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আইনগত সহায়তার মতো বিষয়কে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করার পদ্ধতিতেও এসেছে পরিবর্তন
২০২৬ সালের সংশোধিত ব্যবস্থায় আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয় অথবা আঞ্চলিক, জেলা কিংবা উপজেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে সরাসরি বা অনলাইনে দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রার্থী সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে মহাপরিচালকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিধান করা হয়েছে।
এটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ আগে কোনো পর্যায়ে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল; নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যাখ্যাত আবেদন নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিলের পথ রাখা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতেও আইনি সহায়তার গুরুত্ব
২০২৬ সালের সংশোধিত ব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিক, শিশু বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা ও আইনি পরামর্শ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনগত পরামর্শ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন, বেআইনি আটক, পারিবারিক বিরোধ, ফৌজদারি মামলা, ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে অক্ষম মানুষের জন্য দ্রুত আইনি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিনামূল্যে সেবা নিতে কী করতে হবে?
কোনো ব্যক্তি আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য মনে করলে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে পারেন। সাধারণভাবে নিজের পরিচয়, যোগাযোগের তথ্য, মামলার বিবরণ এবং আর্থিক/সামাজিক অসচ্ছলতার বিষয়টি যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা উচিত। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র, যেমন এজাহার, চার্জশিট, আদালতের আদেশ, নোটিশ, মামলা নম্বর, রায় বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিল থাকলে সেগুলো সঙ্গে নেওয়া সুবিধাজনক।
জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের বর্তমান ওয়েবসাইটে ১৬৬৯৯ নম্বরকে জাতীয় লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ বিষয়ে নতুন ‘১৬৬৯৯’ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালুর নোটিশও প্রকাশ করা হয়।
ছবির সাইনবোর্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
ছবিতে প্রদর্শিত সাইনবোর্ডে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ এবং ১৬৪৩০ নম্বর উল্লেখ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোয় পরিবর্তন এনে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটে জাতীয় হেল্পলাইন হিসেবে ১৬৬৯৯ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, পুরোনো সাইনবোর্ড দেখে কেউ যেন ১৬৪৩০ নম্বরকেই বর্তমান নম্বর মনে না করেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর সাইনবোর্ড, প্রচারসামগ্রী ও তথ্যপত্র দ্রুত হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
লিগ্যাল এইড শুধু মামলা করার জায়গা নয়
অনেকের ধারণা, লিগ্যাল এইড অফিসে গেলে শুধু বিনামূল্যে আইনজীবী দেওয়া হয়। বাস্তবে এর পরিধি আরও বিস্তৃত। আইনি তথ্য, পরামর্শ, মামলা পরিচালনা, আইনজীবী নিয়োগ, মামলার প্রাসঙ্গিক ব্যয় এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি—সবই আইনগত সহায়তা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিরোধ দীর্ঘদিন আদালতে চলার পরিবর্তে আইনসম্মত সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হলে পক্ষগুলোর সময়, অর্থ ও মানসিক চাপ কমতে পারে। বাংলাদেশ বিচার বিভাগের তথ্যেও আইনগত সহায়তা আইনের অধীনে লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে ADR-এর ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান
অর্থের অভাবে কোনো ব্যক্তি যদি আইনগত প্রতিকার নেওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাহলে তিনি প্রথমেই নিকটস্থ লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে গুরুতর ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন, জমি বা সম্পত্তির বিরোধ, পারিবারিক মামলা কিংবা আপিলের মতো বিষয়ে আইনগত সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম না করে দ্রুত আইনগত পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আদালত বার্তার পর্যবেক্ষণ
রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। বিচারব্যবস্থা তখনই অর্থবহ হয়, যখন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল একজন মানুষও একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির মতো আইনের আশ্রয় নেওয়ার বাস্তব সুযোগ পান।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে শুধু অফিস স্থাপন বা সাইনবোর্ড টাঙালেই হবে না—যোগ্য ব্যক্তির কাছে তথ্য পৌঁছানো, আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ, প্যানেল আইনজীবীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ADR কার্যকর করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
আইনগত সহায়তা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট—অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে পিছিয়ে যাবেন না; আইনগত সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানুন এবং প্রয়োজন হলে আবেদন করুন।
বিশেষ তথ্য: বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী জাতীয় লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন ১৬৬৯৯ (টোল-ফ্রি)।
আইনগত তথ্যের এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত। কোনো নির্দিষ্ট মামলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিস বা যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট