
৪ ‘বাংলাদেশি’র কারাদণ্ড মওকুফ করে দেশে পাঠানোর নির্দেশ ত্রিপুরা হাইকোর্টের
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের ত্রিপুরা হাইকোর্ট অবৈধভাবে দেশটিতে অনুপ্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত চার বাংলাদেশি নাগরিকের বাকি কারাদণ্ড মওকুফ করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি টি আমরনাথ গৌদের বেঞ্চ পৃথক দুটি মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রথম মামলা: মৌলভীবাজারের দম্পতি
পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন এবং বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা সীমান্তের শ্রীরামপুর-মনু সেতু থেকে ১৩ জনকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আটককৃতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা রাতিলাল দাস ও তাঁর স্ত্রী বিনীতা রানি দাস। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ঊনকোটি জেলা আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে এই দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার রুপি জরিমানা করেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে তাঁরা কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানো এবং দেশে ফেরার আকুতি জানান। শুনানিতে রাজ্য সরকার আদালতকে জানায়, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। এরপর আদালত তাঁদের সাজা পরিবর্তন করে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী আপিলকারীদের নিজ দেশ বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার জন্য রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত তাঁরা কারাহেফাজতে থাকবেন, তবে তাঁদের আর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
দ্বিতীয় মামলা: ধলাই জেলায় আটক দুই নারী
দ্বিতীয় মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর ত্রিপুরার ধলাই জেলার আমবাসা রেলস্টেশনে লিজা ও মনসুরা আক্তার নামে দুই নারীকে আটক করে বিএসএফ। তাঁরা ভারতীয় নাগরিক—এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় জালিয়াতি ও পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘনের দায়ে ধলাই আদালত তাঁদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
পরবর্তীতে তাঁদের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরা হাইকোর্ট এই মামলাটিতেও কারাদণ্ডের মেয়াদ পরিবর্তন করে তাঁদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।