
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও আইন-আদালত বিভাগ,আদালত বার্তাঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলটিকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর দ্বারস্থ হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি (কিংস কাউন্সেল) জাতিসংঘের তিনজন বিশেষ ম্যান্ডেটধারী বিশেষজ্ঞের (Special Rapporteurs) কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আইনি যোগাযোগপত্র (Formal Communication) পেশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক অধিকারের সার্বজনীন সনদের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এই আবেদনে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সনদের যে ধারাগুলোর লঙ্ঘনের অভিযোগ
জাতিসংঘে দাখিলকৃত আবেদনে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক দলের ওপর পাইকারি নিষেধাজ্ঞা জারি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর বেশ কয়েকটি মৌলিক ধারা লঙ্ঘনের আইনি যুক্তি এতে তুলে ধরা হয়:
আবেদনে বলা হয়, একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক আদেশে নিষিদ্ধ রাখা এবং লাখ লাখ ভোটারের পছন্দের সুযোগ বাতিল করা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তির সঙ্গে অসঙ্গত।
দেশীয় আদালতে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সীমাবদ্ধতা
আবেদনে বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়, দেশীয় আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী রিট বা আইনি চ্যালেঞ্জ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলমান মামলা, সার্বিক নিরাপত্তা শঙ্কা এবং আইনজীবীদের ওপর মানসিক ও পেশাগত চাপের কারণে সঠিক আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জাতিসংঘে দাবি করেন স্টিভেন পাওলস কেসি।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর প্রশ্ন
যোগাযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার তা প্রশাসনিকভাবে আরও স্থায়ী রূপ দেয়।
আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় তা সার্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত ব্যবস্থার বৈধতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ।
জাতিসংঘের যেসব বিশেষ বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে
আইনি আবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আওতাধীন তিনজন গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন বিশেষজ্ঞের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছে:
আবেদনে জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞদের অবিলম্বে বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি প্রকাশ্য প্রতিবেদন ও বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়।