আজ বিশ্ব ‘আইনজীবীকে ভালোবাসার দিন’: অধিকার ও ন্যায়বিচার সুরক্ষার স্বীকৃতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | আদালত বার্তাঃ৬ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা:
আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং সুবিচার নিশ্চিত করার মহান দায়িত্বে যারা মেধা ও শ্রম বিলিয়ে দেন—সেই বিজ্ঞ আইনজীবীদের সম্মান ও ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘লাভ ইয়োর লয়ার ডে’ (Love Your Lawyer Day) বা ‘আইনজীবীকে ভালোবাসার দিন’। ক্যালেন্ডারের ধারাবাহিকতায় আজ ৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের আইন অঙ্গনেও দিনটির তাৎপর্য গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
আইন পেশার গাম্ভীর্য, মানবিক দিক এবং সমাজের প্রতি আইনজীবীদের অবদানকে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ সালে দিবসটির সূচনা হয়।
আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক ও বিচার ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শ্রমসাধ্য। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিটি মামলার পেছনে একজন আইনজীবীকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। জটিল আইনি নথি পর্যালোচনা, দীর্ঘ শুনানি এবং আদালতের সহায়তায় তাদের ভূমিকা থাকে অগ্রগণ্য।
বিশেষ করে প্রান্তিক ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা প্রদান (Legal Aid), মানবাধিকার রক্ষা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক প্রতিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশের আইনজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য।
দিবসটির তাৎপর্য ও দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে ‘আদালত বার্তা’র সঙ্গে কথা বলেন বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট রাবেয়া বেগম।
তিনি বলেন:
"আমাদের দেশে একজন আইনজীবীর জীবন শুধুই পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজ ও মানুষের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতার জায়গা। প্রতিদিন শত শত বিচারপ্রার্থী চরম সংকট নিয়ে আইনজীবীর টেবিলে বসেন। তাদের আশ্বস্ত করা, আইনের জটিল পথ পাড়ি দিয়ে ন্যায়বিচার এনে দেওয়ার লড়াইটি মানসিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।"
তিনি আরও যোগ করেন:
"বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিনটির মূল বার্তা হলো পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ। একজন আইনজীবী যখন নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে কারও হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনেন, তখন মক্কেলের মুখের স্বস্তিই বড় প্রাপ্তি। তবে এ পেশাকে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে বিচারপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে আইনজীবীর শ্রমের মানসিক মূল্যায়ন, সময়মতো পেশাগত ফি পরিশোধ এবং নারীদের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার মাধ্যমেই বিচার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে।"
সামাজিক মাধ্যমে রসিকতার ছলে ‘বেশি বেশি ফিস দেওয়ার দিন’ হিসেবে প্রচার হলেও, দিনটির মূল শিক্ষা মূলত শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাগত মূল্যায়ন।
ন্যায়বিচারের দীর্ঘ লড়াইয়ে যেসব বিজ্ঞ আইনজীবী সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকেন, ‘আদালত বার্তা’ পরিবারের পক্ষ থেকে সেই সব সম্মানিত আইনজীবীদের প্রতি রইল সশ্রদ্ধ অভিনন্দন ও ভালোবাসা।