প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৯, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৯, ২০২৬
আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন নিষিদ্ধ: পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা
আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন নিষিদ্ধ: পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা
নিউজ ডেস্ক,আদালত বার্তাঃ৯ আগষ্ট ২০২৬
শব্দদূষণ রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ বাস্তবায়নে নাগরিকদের প্রতি নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা
নতুন বিধিমাল অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকার ধরন অনুযায়ী শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়:
- নীরব এলাকা: সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল
- শিল্প এলাকা: সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল
জনসমাগম ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের নিয়ম
- সরকারি অনুমতি: যেকোনো পাবলিক প্লেসে উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।
- সর্বোচ্চ সময় ও সীমা: অনুমতি মিললেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবল এবং ব্যবহারের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- রাতের সীমা: রাত ১১টার পর কোনো অবস্থাতেই উচ্চশব্দ তৈরি করে এমন যন্ত্র বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না।
হর্ন, পটকা ও বনাঞ্চল সংক্রান্ত বিধিনিষেধ
- হর্ন নিয়ন্ত্রণ: উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী হর্ন প্রস্তুত, আমদানি, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- আবাসিক এলাকা: রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
- নীরব এলাকা: হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো, পটকা ফোটানো কিংবা আতশবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
- বনাঞ্চল রক্ষা: বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন আয়োজন, পিকনিক বা উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র পরিচালনা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্মাণকাজের সময়সীমা
আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত যেকোনো ধরণের ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা শব্দ সৃষ্টিকারী কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইন লঙ্ঘন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা 
আইন প্রয়োগে পরিবেশ অধিদপ্তর ট্রাফিক বিভাগকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন যেকোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সাধারণ জনগণকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে জনস্বার্থে নতুন এই বিধিমালা মেনে চলার আকুল আহ্বান জানিয়েছে।
Copyright © 2026 আদালত বার্তা. All rights reserved.