
বিনোদন ডেস্ক | আদালত বার্তাঃ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলা ভাষা, শুদ্ধ উচ্চারণ, আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে দর্শকের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে কণ্ঠশীলনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সমবেত প্রযোজনা ‘শ্রুতি সমাহার’। চারটি ভিন্নধর্মী সাহিত্যকর্মকে আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের মাধ্যমে একই মঞ্চে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি হয়ে উঠেছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এক নান্দনিক সন্ধ্যা।
২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নাটক সরণিতে অবস্থিত ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। বাংলা তারিখ অনুযায়ী দিনটি ছিল ১১ কার্তিক ১৪৩৩।
নন্দনভাবনা, প্রমিত উচ্চারণ ও বিশুদ্ধ বাকশিল্পচর্চার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে কণ্ঠশীলন এ আয়োজন করে। ‘শ্রুতি সমাহার’-এ চারটি আলাদা সাহিত্যকর্মকে চার ভিন্ন উপস্থাপনাভঙ্গিতে মঞ্চে তুলে ধরা হয়। আয়োজনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—কণ্ঠশীলনের চার তরুণ নির্দেশকের সম্মিলিত সৃজনশীল প্রয়াস।
আয়োজনের শুরুতেই অনন্যা গোস্বামীর নির্দেশনায় পরিবেশিত হয় কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’। মুক্তিযুদ্ধ, সময়ের দাবি, ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ ও সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এ পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ইতিহাস ও সামাজিক দায়বোধের অনুরণন সৃষ্টি করে।
এরপর পরিবেশিত হয় ‘আমার এ মাটির গান’। নুরুজ্জামান নান্নুর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় নির্মিত এ পরিবেশনায় উঠে আসে মাটি, মানুষ, স্বদেশ ও শেকড়ের সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক।
দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজস্ব শিকড়ের প্রতি টানকে আবৃত্তি ও শ্রুতিনির্ভর পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এতে অংশ নেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, মিনহাজুল বশির শোভন, নিবিড় রহমান, রাবেয়া হক, তাসনিম ইসলাম দ্যুতি ও পারভীন আফরোজা আরশি।
তৃতীয় পরিবেশনা ছিল নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় রচনা ‘পরের উপকার করিও না’। এর নির্দেশনায় ছিলেন নিবিড় রহমান।
মানুষের সরলতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, জীবনের নানা বাস্তবতা এবং অন্যের উপকার করতে গিয়ে তৈরি হওয়া অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিকে হাস্যরস ও মনস্তাত্ত্বিক আবহে তুলে ধরা হয় এ পরিবেশনায়। পরিচিত টেনিদা চরিত্রের উপস্থিতি পরিবেশনাটিতে যোগ করে আলাদা প্রাণ ও বিনোদনের মাত্রা।
এতে অংশ নেন নুরুজ্জামান নান্নু, আফরিন খান, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, মারিয়া কিবতিয়া ও মো. আল মামুন সিদ্দিক।
আয়োজনের শেষ পরিবেশনা ছিল ‘আক্কেল গুড়ুম’। আবদুশ শাকুরের রচনাকে ভিত্তি করে এর শ্রুতিনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেন রইস উল ইসলাম।
প্রখর রসবোধ, ব্যঙ্গ এবং নাট্যধর্মী উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ও মানুষের আচরণের বিচিত্র দিক তুলে ধরা হয় এ পরিবেশনায়। শ্রুতিনাট্যের অভিনয়, বাচনভঙ্গি ও রসবোধের সমন্বয়ে এটি দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এ প্রযোজনায় অংশ নেন রইস উল ইসলাম, অপূর্ব সাহা, মো. আবদুল কাইয়ুম, তানজিনা খান লিজা ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
‘শ্রুতি সমাহার’-এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কণ্ঠশীলনের চার তরুণ নির্দেশকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। চারটি ভিন্ন সাহিত্যকর্ম, ভিন্ন বিষয়বস্তু এবং স্বতন্ত্র উপস্থাপনাভঙ্গিকে একই মঞ্চে একত্র করার মধ্য দিয়ে তাঁরা আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
আবৃত্তিকে শুধু কবিতা বা সাহিত্য পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কণ্ঠ, বাচনভঙ্গি, অভিনয়, সুর, আলো ও মঞ্চনির্মাণের সমন্বয়ে সাহিত্যকে জীবন্ত করে তোলার প্রয়াস দেখা যায় পুরো আয়োজনে।
কণ্ঠশীলনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, প্রমিত বাকশৈলী, আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি সাহিত্য ও মঞ্চশিল্পের একটি সুন্দর মেলবন্ধনও ফুটে ওঠে।
চারটি সাহিত্যকর্ম, চারটি আলাদা ভাবনা এবং চার তরুণ নির্দেশকের সৃজনশীল সমন্বয়ে ‘শ্রুতি সমাহার’ ২৮ অক্টোবরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দর্শকদের উপহার দিয়েছে সাহিত্য, কণ্ঠ ও মঞ্চশিল্পের এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।