কয়েক হাজার একর নতুন ভূমি যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশে
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর মেঘনার বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠছে নতুন চর।
নোয়াখালীর মেঘনার বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠেছে নতুন ৩০টি চর। ফলে কয়েক হাজার একর নতুন ভূমি যুক্ত হতে চলেছে বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানায়। এরই মধ্যে ১ লাখ ৬৪ হাজার একর চরাঞ্চলের জমি ভূমি মন্ত্রনালয়ের নথিভুক্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চরে ধান চাষ, গরু, মহিষ ও ভেড়ার চারণ ভূমি গড়ে উঠেছে। গবেষকরা বলছেন, জেগে ওঠা চর অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে জেগে আছে সন্দ্বীপ। বহু বছরের ভূমিক্ষয় ও পলিমাটিতে গড়ে ওঠেছে এই দ্বীপ জনপদ। ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছরে সন্দ্বীপের পাশেই জেগে উঠেছে জাহাইজ্জার চর বা স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচর। পরে ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তর করা হয়। মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র স্পারসোর গবেষণা চিত্র বলছে, প্রায় চার দশক ধরে সন্দ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচর এক হচ্ছে।
নোয়াখালীর হাতিয়া, মেঘনা-বঙ্গোপসাগরে ঘেষে সবচেয়ে বেশি চর জাগছে। এখানে চর ঘাসিয়া, ঢালার চরসহ চারটি নতুন চরে জনবসতি শুরু হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু বেলাভূমি গরু মহিষ, ভেড়ার চারণ এলাকা হয়ে উঠেছে। হাতিয়া দ্বীপের আশপাশের এলাকায় এমন আরও ত্রিশটি নতুন চর এখন দৃশ্যমান।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, 'প্রতি বছর ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন টন পলি জমা হয় আমাদের বঙ্গোপসাগরে। এখানে বাদাম, সয়াবিক, এমনকি ধানও খুব ভালো হচ্ছে। উড়ির চরে দেখা গেছে এখন প্রচুর ভালো ধান হচ্ছে। এ ধরণের ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও একটা ভালো সুযোগ তৈরি হচ্ছে।'
পর্যটক আকর্ষণেও কাজে লাগানো যেতে পারে জেগে উঠা নতুন ভূখণ্ডকে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, 'আরও কিছু পরিকল্পিত আকারে সেখানে (জেগে ওঠা চরে) যদি টুরিস্ট স্পট গড়ে তোলা যায়, তাহলে বাংলাদেশে কক্সবাজারের পরে এটিও একটি অপার সম্ভাবনার দিক।'
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১৭ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে হারাতে পারে ৩০ ভাগ কৃষি জমি। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। এই বাস্তুচ্যুত মানুষের নতুন ঠিকানা হতে পারে মেঘনার দক্ষিণ-পূর্বে জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ড।
এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল মমিন সিদ্দিকী বলেন, 'অনেক জায়গায় নদীর ভাঙ্গনের কারণে মানুষ উদবাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। কৃষি জমি এবং বসতভিটা সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই মানুষগুলোকে আমরা ওখানে পুনর্বাসিত করতে পারি।'
তবে জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ডের কারণে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। শেরে ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র গবেষক ড. কাজী আহসান হাবীব বলেন, 'এই চরগুলো যেখানে যেখানে জেগে উঠছে, এই জেগে উঠার জায়গায় দেখতে হবে যেন ইলিশের বা অন্যান্য মাছের
মাইগ্রেটরি রুটগুলো বন্ধ না হয়। মাইগ্রেটরি রুটগুলোকে চালু রাখতে প্রয়োজনে ড্রেজিং করতে হবে।'
হাতিয়ার দক্ষিণে আরও নতুন কিছু ডুবোচরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা বলছেন, নতুন চর বসবাস উপযোগী হতে অন্তত ৪০ বছর সময় লাগবে।