শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
Title :
কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার নিজ ফ্ল্যাটে গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত দীর্ঘ অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু ২৫ অক্টোবর বিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য শনিবার খোলা থাকবে অ্যাটর্নি-জেনারেলের কার্যালয় পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে নিরাপত্তার নেপথ্য প্রহরা বর্ডার পার হওয়ার আগে অবশ্যই পোর্ট ট্যাক্স ও ভ্রমণ কর সঙ্গে রাখবেন সেনাপ্রধানের সেন্ট মার্টিন সফর ঘিরে প্রশ্ন, গভীর সমুদ্রে যাওয়ার খবরের স্বাধীন যাচাই হয়নি চীনা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: তিন দশকের ফাইলবন্দি খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন গতি ফ্রান্সের অস্থিরতা: গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কোথায় শেষ, নৈরাজ্য কোথায় শুরু? সৌরবিদ্যুৎ সুরক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি: চুরি ও নাশকতায় কারাদণ্ড-অর্থদণ্ড আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলা: রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়ে কারামুক্ত সাবেক এসআই আবজালুল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সময়সূচি জারি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজ সরকারি গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাস কামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজ সরকারি গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাস কামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।।

নিজস্ব প্রতিবেদক | আদালত বার্তা | ঢাকা | ২৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজ সরকারি গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাস কামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।
অভিযোগকারী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাস কামরায় ডেকে নেন। তিনি সঙ্গে গাড়ির লগবই নিয়ে যান। লগবইয়ে ডিউটির সময় সকাল ৭টা লেখা থাকার কারণ জানতে চান বিচারক।
বাচ্চুর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিচারককে জানান—বিচারক সাধারণত সকাল ৮টার দিকে গাড়িতে ওঠেন। তাই সকাল ৭টার মধ্যে গাড়ি পৌঁছালে গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় পাওয়া যায়। এ কথা বলার পর বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি এবং কানের ওপর থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পিয়ন তাঁকে সরিয়ে দেন বলেও দাবি করেন বাচ্চু।
চিকিৎসা নিয়েছেন গাড়িচালক
ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে সহকর্মীরা উদ্ধার করেন বলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের আরেক গাড়িচালক আবদুর রহিম জানিয়েছেন। পরে তাঁকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিচারকের
অভিযোগের বিষয়ে বিচারক সোহেল রানা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি মারধরের মতো নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ি পরিষ্কার করা ও লগবই হালনাগাদসহ পেশাগত দায়িত্বের বিষয় নিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে চালকের আচরণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। তবে চোখে ঘুষি মারার অভিযোগ তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের স্টাফ ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার না করার বিষয়ে চালককে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং পরে তাঁকে ধমক দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। কোনো শারীরিক হামলা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
আরও কিছু অভিযোগ তুলেছেন চালক
গাড়িচালক বাচ্চু বিচারকের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে বাদ দিয়ে কখনো গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালানো হয় এবং সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব নিয়েও তাঁর আপত্তি ছিল। এসব বিষয়ে আপত্তি জানানোর কারণে বিচারকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই বা প্রমাণিত হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত
ঘটনাটিকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—খাস কামরায় আসলে কী ঘটেছিল? অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একজন বলছেন, তাঁকে চোখে ঘুষি ও কানে থাপ্পড় মারা হয়েছে; অন্যদিকে বিচারক বলছেন, তিনি শুধু ধাক্কা দিয়ে তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন।
এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ঘটনার সময় খাস কামরায় কারা ছিলেন, সংশ্লিষ্ট পিয়ন ও কর্মচারীদের বক্তব্য কী, আদালত প্রাঙ্গণে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না, চিকিৎসা নথিতে কী ধরনের আঘাতের কথা উল্লেখ আছে এবং গাড়ির লগবইয়ে কী তথ্য রয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জবাবদিহি
বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।
তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি—অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। তদন্তের আগে কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ন্যায়সংগত নয়, তেমনি অভিযোগ উঠেছে বলে সেটিকে উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।
আইন ও বিধি অনুযায়ী অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিচারের আসনের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইন, শৃঙ্খলা, সংযম ও জবাবদিহি—চারটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার। একই সঙ্গে বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রমাণভিত্তিক ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে স্পষ্ট করবে। এতে একদিকে অভিযোগকারীর ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট বিচারকের ন্যায্য অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট